আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমপিরা কোথায় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:২৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমপিরা কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০২৪ ২:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০২৪ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। হঠাৎ তৈরি হওয়া উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। নিরাপত্তাহীনতায়, শঙ্কায় গা ঢাকা দিয়েছেন তারা। নেতাদের মধ্যে প্রায় সবারই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী কার্যালয়সহ নেতাদের বাসাবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গতকাল ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন সেনা সদস্যরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়। এরপর আন্দোলনকারীরা শাহবাগমুখী হতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা ঢাকায় ঢুকছেন, এমন সংবাদ প্রকাশের পরই আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি হতে পারে সেটা গত তিন-চার বছর ধরেই বুঝতে ছিলাম। কিন্তু আমরা তো দলীয় সভাপতির কাছে যেতে পারিনি। ওনাকে একটি মহল নানা পরামর্শ দিয়ে এ পথে নিয়ে গেছেন। এখন পরামর্শদাতারা কোথায় আছেন জানি না।’

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ‘এখন আপাতত এক জায়গায় আত্মগোপনে আছি। এমন করে কয়দিন থাকতে পারব জানি না।’

এদিকে সরেজমিনে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় এলাকায় ঘুরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও ওই কার্যালয়ের তিনজন কর্মচারীকে দেখা যায়। এক কর্মচারী বলেন, ‘কারফিউ থাকায় নেতারা আসবেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

গতকাল দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডির বাসভবনে ছিলেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বন্ধ পাওয়া যায় তার ব্যক্তিগত সহকারীর নম্বরও।

দুপুর ১টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে এ প্রতিবেদক মৎস্য ভবন এলাকায় দেখতে পান। ওই সময় সেগুনবাগিচা থেকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। মিছিল দেখে মৎস্য ভবনের মোড়ের আগেই তাকে বহনকারী কালো রঙের পাজেরো গাড়িটি থেমে যায়। এ সময় তার প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা গাড়ি থেকে পুলিশের দুজন সদস্য মিছিলটি কাদের জানতে চান। আন্দোলনকারীদের শুনে হাছান মাহমুদকে বহনকারী গাড়িটি উল্টো পথে কাকরাইল মসজিদের দিকে চলে যায়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী অসুস্থ হওয়ায় বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও কল রিসিভ করেননি সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাতের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। গত কয়েক বছর ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে হঠাৎ তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে দলের জন্য ‘দুর্যোগ’ বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতারা। তারা বলেন, গত রবিবার নেতাদের আত্মবিশ্বাসের কথা শুনে আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারব। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিপরীত অবস্থা দেখে আমরা চরম হতাশ ও দলের নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছি। সময় এলে তাদের কাছ থেকে জবাব নেওয়া হবে।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া পরিস্থিতি নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ