আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন হাফিজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৫০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০২৪ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০২৪ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুরোধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। বুধবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে চাপ বা প্রলোভন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন বলেন, প্রলোভন ছিল না। বন্ধুদের চাপ ছিল। বন্ধুদের যারা সামরিক বাহিনীর সদস্য বা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি; যাদের সঙ্গে একসঙ্গে পার্লামেন্টের সদস্য ছিলাম তারা অনুরোধ করেছিলেন। ক্ষমতাসীন (আওয়ামী লীগ) মহল থেকে কেউ কেউ আশা করেছিলেন আমি হয়তো ক্ষমতাসীন দলের কিংবা নতুন গজিয়ে ওঠা কোনো রাজনৈতিক দলে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। তারা জানে আমি যদি বিএনপি ছাড়ি আমার সঙ্গে আরও অনেকেই সঙ্গী হতেন। বিএনপি’রও কিছু কিছু এমপি অবমূল্যায়িত। তাদের মনে ক্ষোভ আছে। তারাও আমাকে অ্যাপ্রোচ করেছিলেন। আমি এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে চাইনি, এখনও চাই না।

বিএনপি করি, বিএনপিই করে যাবো।
সুযোগ মিস করার কোনো অনুশোচনা হয় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, সেটা হয় না। আমি অন্তত গর্বিত যে, আমি আমার দলের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। যারা ক্রান্তিলগ্নে বা মোক্ষম সময়ে সুবিধাবাদিতার নিদর্শন রেখে দল পরিত্যাগ করে অন্য দলে যান তাদের প্রতি আমার করুণা হয়। সব কিছুর একটা সময় আছে। বয়সের শেষ প্রান্তে এসে এই ধরনের লোভ সামলাতে না পারা অন্তত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, বিএনপি এখন রাজনীতিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। রাজনৈতিক দলে একবার রাজনীতি শুরু করলে এটিই ঘর সংসারের মতো হয়ে যায়। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে আমার কমান্ডার ছিলেন। জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়ার সঙ্গে আমার যে স্মৃতি, এই স্মৃতির কথা স্মরণ করলে আমার পক্ষে দল ত্যাগ করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য কিছু কিছু অবহেলা সহ্য করেও বিএনপিতে রয়েছি। আমার মনে দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে। বিএনপি আবার জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে। সুতরাং হতাশার কোনো কারণ নেই।

সম্প্রতি গুলশান থানার নাশকতার মামলায় ২১ মাসের সাজা পাওয়া হাফিজ উদ্দিন জামিনে কারামুক্ত হন। সাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনতা ব্যাংকের একটি স্টাফ বাস নাকি পুড়িয়েছি আমি এবং আলতাফ সাহেব। এগুলো সাজানো মামলা, মিথ্যা মামলা। এই সাজা আমার জন্য অকল্পনীয় ছিল। যারা এই শাস্তি দিয়েছেন আশা করি তারা একদিন এর জন্য লজ্জিত হবেন।

সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ অধিকার ফিরে পাবেই: হাফিজ
ওদিকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, বাঙালি সংগ্রামী জাতি, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আজ হোক আর কাল হোক সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের মৌলিক অধিকার সমূহ ফিরে পাবেই। এই সংগ্রামে বিএনপি নেতৃত্ব দেবে। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আলোচনা সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসকে ইতিমধ্যে বিতর্কিত করা হয়েছে। মনের মাধুরী মিশিয়ে কবিদের কবিতার মতো ইতিহাসও রচিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮০ থেকে ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হলেও এখন আড়াই লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, বর্তমান শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য দায়ী। ২৫শে মার্চের পর শুরু হয়েছিল সশস্ত্র সংগ্রাম। এটি খুব কঠিন। লাখ লাখ মানুষ তার জীবন ও রক্ত দিয়ে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছে। এই অংশটি সম্পর্কে শাসক দল নীরব। কারণ সেখানে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

জেড ফোর্সের অধিনায়ক মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান অসীম সাহসী ছিলেন। তবে এখনকার শিশুদের মনে এই ধারণা দেয়া হচ্ছে, তিনি ছিলেন একজন পাকিস্তানের এজেন্ট। অথচ আমি এখনো জীবিত আছি। আমি মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে থেকে যুদ্ধ করেছি।

বিএনপি’র এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকরা যদি প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ না হতেন তাহলে আজও দেশ পাকিস্তান থাকতো। কারণ পাকিস্তানের বর্বর বাহিনীর অস্ত্রের সামনে দাঁড়ানোর মতো নিরস্ত্র বাঙালির কাছে কোনো হাতিয়ার ছিল না। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হই।
একটি রাজনৈতিক দলের কৃতিত্বকে বড় করে দেখানোর জন্য দেশের সাধারণ মানুষদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অবশ্যই রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব আছে। স্বীকার করি। কিন্তু সব চেয়ে কঠিন পর্যায় যেখানে জীবন দিতে হয়, সেখানেই এগিয়ে এসেছে বাঙালি সৈনিকরা। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাধারণ মানুষের যুদ্ধ, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না।

মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে। এ ছাড়া সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে। সদস্য রয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, রাজশাহী বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রংপুর বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, ময়মনসিংহ বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কুমিল্লা বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, খুলনা বিভাগ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বরিশাল বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, ফরিদপুর বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সিলেট বিভাগ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ