আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৪ ২:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৪ ২:৫০ অপরাহ্ণ

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির পক্ষ থেকে পালন করার আহবান
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা,বিশেষ প্রতিনিধি
স্বাধীন বাংলাদেশ আগামীকাল ৩০ আগস্ট ২০২৪ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে।
৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪)বিনা ভোটের এবং গুম-খুনের রানী প্রধানমন্ত্রী চুপিসারে ভারতে পালিয়ে যায়।দেশে আসে গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ী ছাত্র -জনতার সরকার। ইতিমধ্যে একজন বিচারপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছে তাদের পরিপূর্ণ তালিকা তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসতে পারে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিগত ১৩ বছর জাতিসংঘ গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করার কথা বললেও তৎকালীন অবৈধ সরকারের প্রধান স্বাক্ষর করেননি।বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাক্ষর করার জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ আয়নাঘর থেকে ১০ বা ১১ বছর পর বের হয়ে এসেছেন। গুম হওয়া সন্তানদের স্বজনরা তাদের সন্তানদের বের হওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ঠিক সেই সময় আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করবে বাংলাদেশ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য মতে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে কেবল অবৈধ অস্ত্র কারবারি ও ভিন্ন মতাবলম্বীরাই গুম হতেন। কিন্তু বর্তমানে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, মাদক কারবারি ও মানব পাচারকারীদের মধ্যেও গুমের ঘটনা দেখা যায়।
গণমাধ্যম থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৮ জন গুমের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ১২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পাঁচ জন ফেরত এসেছে। এখনো ১১ জন গুম রয়েছেন।
এর আগে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ৬০৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, ৮৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন ফেরত এসেছেন। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার, স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন যে, বিশেষ বাহিনী—র্যাব, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচয়ে সাদা পোশাকে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বাহিনী তাদের গ্রেফতার বা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে।
গুমের শিকার সকল নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। প্রতিটি গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা হয়েছে সেখানে মায়ের ডাক এর প্রতিনিধি রাখা হোক। গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত কে আমরা স্বাগত জানাই। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোকে আমলে এনে এ ধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে বিদ্যমান আইন কাঠামোতে পরিবর্তন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আগামীকাল ৩০ আগস্ট। সারা পৃথিবীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দিবসটি পালিত হবে।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স এগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস বলে ঘোষণা করা হয়।
২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট গুম হওয়া মানুষগুলোকে স্মরণ এবং সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আর গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি আছেন সাধারণ লোকজনও।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এড সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল-আমিন আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের সকল মানবাধিকার সংগঠন এবং বিশেষ করে রাস্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করার আহবান জানান।
জনতার আওয়াজ/আ আ