আটকে থাকা আমানত ফেরত পেতে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মে ৬, ২০২৬ ৪:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মে ৬, ২০২৬ ৪:১২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা সমস্যাগ্রস্ত ছয় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগীরা এ মানববন্ধন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন দেন তারা।
‘অ্যালায়েন্স ফর সিক্স এনবিএফআই ডিপোজিটর্স ফর রিকভারি’র ব্যানারে দেওয়া এই আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সাত বছর ধরে ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে আছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ আটকে থাকায় অনেক আমানতকারী চিকিৎসাসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে পারছেন না। ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি চিকিৎসার অভাবে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা মনে করেন, দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। এই প্রেক্ষাপটে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিন দফা দাবি
আবেদনে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে-
প্রথমত, পূর্বে ঘোষিত জুলাই ২০২৬-এর পথনকশা অনুযায়ী অর্থ ফেরতের দ্রুত, স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ঘোষণা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, আমানতকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গভর্নরের সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দিয়ে সমস্যাগুলো উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে।
ভুক্তভোগীরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত, কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালন করবে এবং এই সংকট নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপ করবে।
এর আগে টাকা ফেরত চেয়ে গত ১৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে অ্যালায়েন্স ফর সিক্স এনবিএফআই ডিপোজিটর্স ফর রিকভারি।
সেদিন তারা বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আমানতের অর্থ ফেরত পেতে সুস্পষ্ট পথনকশা প্রয়োজন।

এ ছাড়া এই ছয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ছয় প্রতিষ্ঠান
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরে এই তালিকা থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
জনতার আওয়াজ/আ আ