আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে পারলে, বাংলাদেশ মুক্ত হবে : গয়েশ্বর - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে পারলে, বাংলাদেশ মুক্ত হবে : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ২:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

 

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে পারলে, বাংলাদেশ মুক্ত হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা মুক্ত হবে। আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও মির্জা আব্বাসসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে মানবন্ধনটি আয়োজন করে ঢাকাস্থ ঠাকুরগাঁও জাতীয়তাবাদী ফোরাম।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘দেশের ১৮ কোটি মানুষ গণতন্ত্র চান। জনগণ তাদের ভোট নিরাপদে দিতে চায়। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে পারলে, বাংলাদেশ মুক্ত হবে। মানুষ ভোট দিতে পারবে। আজকে আদালত, সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সব কিছু শেখ হাসিনার কথায় চলে। সকালে শেখ হাসিনা যা বলেন দুপুরে আদালত তাই করেন। ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদরা টেলিভিশনে যা বলেন আদালতে সেই মোতাবেকই রায় হয়। এসব দেখেই বুঝা যায় আদালত স্বাধীন নয়। স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়ও না। সেই কারণে আমাদের আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। ফ্যাসিবাদ সরকার কখনও নিরস্ত্র জনগণের সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকতে পারবে না। আগেও পারেনি। শেখ হাসিনার পতন অনিবার্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাদের মুক্তি কার কাছে চাইবো। তিনি আমাদের দলের শীর্ষ নেতাদেরকে ধরেছেন, তিনি তো ছাড়বেন না। আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত একবার বলেছিলেন, ‘বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে হাসিনা ধরলে কাউকে ছাড়ে না’। তাই এই সরকারের কাছে মুক্তি চেয়ে লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার সমাবেশ নিয়ে সরকার অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমাদের নেতা ডা. জাহিদের কাছে সমাবেশ করার অনুমতি পত্র দিয়ে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে রাতের অন্ধকারে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। নানা নাটকীয়তার পরে জেলখানায় পাঠায়। তাদেরকে ৭ই ডিসেম্বর নয়া পল্টনে সংর্ঘষের ঘটনায় উস্কানিদাতা হিসেবে জেলে পাঠানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম নেই। তার পরেও নিন্ম আদালতে তাদের জামিন মিলেনি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, ‘আমার আদালতকে একটি কথাই বলতে চাই, আমরা ন্যায় বিচার চাই। যাদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, তাদের নিয়ে আমরা আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই। আমরা করুনা চাই না। এতো দিন আমরা ন্যায় বিচার পাই নাই।’

খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার পায়নি উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ন্যায় বিচার চেয়েছিলো। তার উপর ন্যায় বিচার করা হয়নি। অবিচারের সম্মুখিন হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে খালেদা জিয়া ব্যতিত এমন কোন নজির নেই যে, এ সংক্রান্ত মামলা কেউ জামিন পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কার কাছে বিচার চাইবো। বিচার বিভাগ যদি আলাদা হতো, বিচারপতিরা যদি বলতে পারতো যে তারা স্বাধীন। তাহলে আমরা ন্যায় বিচার পেতাম। কিন্তু এখন আমাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আর আমাদের নেতাদের মুক্তি চাইবো না, এখন তাদেরকে মুক্ত করবো। আমরা গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ সকল নেতাকর্মীদের আমার মুক্ত করবো।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমার চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের বাধা শেখ হাসিনা। তিনি যতক্ষণ ক্ষমতায় থাকবেন, ততক্ষণে পুলিশ, র‌্যাব, আদালত, প্রশাসন বাধা থাকবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে, পুলিশ জনগণের পক্ষে কাজ করবে। পুলিশ আর কখনও জনগণের উপর অত্যাচার করবে না। জনগণের খাদেম হিসেবে কাজ করবে। এ কারণে আমরা বলছি, আগামী সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র পথ হচ্ছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সরকার পদত্যাগ করলেই খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাসসহ সকল কারাবন্দির মুক্তি মিলবে।’

সংগঠনের সভাপতি সোহেল রানার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ‘বিএনপি নেতা মীর আলী নেওয়াজ, শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, আনিসুর রহমান খোকন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আব্দুল আলীম প্রমুখ।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ