আপাতত আর কোন প্লট বরাদ্দ দিবে না রাজউক: রিয়াজুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৪, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আপাতত আর কোন প্লট বরাদ্দ দিবে না রাজউক: রিয়াজুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ২১, ২০২৫ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ২১, ২০২৫ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আপাতত আর কোন প্লট বরাদ্দ দিবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম। সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম- বাংলাদেশ কর্তৃক ‘সমস্যার নগরী ঢাকা: সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের আপাতত কোন জমি একুজিশন করে প্লট বরাদ্দ দেয়ার কোন টার্গেট নাই। অনেকে আমাকে বলে যে কোন প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে কিনা। আমি বলে দেই ‘নো বরাদ্দ’। আমরা আপাতত কোন প্লট বরাদ্দ দিব না। আমাদের যে জায়গাগুলো আছে সেগুলো আমরা আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেনির জন্য আবাসন ব্যবস্থা করবো। এটা কিস্তিতে বা অন্য পদ্ধতিতে দেয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের তিলোত্তমা বাদ, সব বাদ। আমরা এখন একটা বাসযোগ্য নগরী চাই। কারন আমরা এখন অতীতে যেতে পারবো না। আমরা ঢাকাকে ডেমোলিশ (ধ্বংস) করেতো আর কিছু করতে পারবো না। আমরা যে জায়গায় আছি সেটাকে নিয়েই সামনে এগোতে হবে। আর এটাকেই যদি আমরা বাসযোগ্য করতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কিছুটা দায়মুক্ত থাকবো।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আমারা সবাই একত্রিত হয়ে যদি একটা সিটি গভর্নমেন্ট হয়… ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য যতগুলো সংস্থা আছে সবাইকে এক ছাতার নিয়ে যদি আমরা একটা প্রোপার প্ল্যানিং করতে পারি এবং সে প্ল্যান যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই আমাদের সমস্যা সমাধান হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, আমাদের জনঘনত্ব একটা সমস্যা। আর আমাদের সবারই আইন না মানার একটা প্রবনতা রয়েছে। এ টু জেড সবার আইন না মানার প্রবণতা আছে। অনেকে বাড়ির দেয়াল দেয় রাস্তা ঘেঁষে। কিন্তু বাড়ির কলাম কিন্তু ঠিকই রাস্তা থেকে পাঁচ ফুট ভেতরে দেয়। কারন তারা জানে টু ডে অর টুমরো তাদের দেয়াল ভাঙা পড়বে। তাই আমি বলতে চাই তারা কিন্তু আইন জানে, জেনেই ওরকম করে।

রাজউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরে বস্তি তৈরি হওয়ার জন্য মানুষই দায়ী। আমরা কাজের লোকে অভ্যস্ত। উন্নত বিশ্বে কয়টা বাড়িতে কাজের লোক আছে? কাজের মানুষদের আমরাই ঢাকা শহরে এনেছি। বস্তিগুলো তৈরি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। তাই আমরা নিজেরাই নিজেদের কাজগুলো কীভাবে করতে পারি, এ বিষয়েও পরিকল্পনা থাকা উচিত।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান। প্রবন্ধে তিনি বলেন, ঢাকা নগরের সমস্যাগুলো সমাধানে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয় না। ঢাকার বেশির ভাগ সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাগুলোও শেষ হয়ে যায়, সমাধান আসে না।

থাইল্যান্ডের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মহল্লাভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা শহরের ৫০ ভাগ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এসময় ঢাকার সমস্যাগুলো সমাধানে মহল্লাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শও দেন তিনি।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকা শহর এখন একটা তাপের শহর হয়ে গিয়েছে। এটা একটা হিট চেম্বার হয়ে গিয়েছে। ধারন ক্ষমতার বেশি মানুষ এখানে রয়েছে। পৃথিবীর কোন শহরে এতো মানুষ নেই। এতো মানুষ নিয়ে কখনো আমরা এই শহরকে একটা বসবাসযোগ্য করতে পারবো না। এখানে একটা সিলিং দিতে হবে। আর কত মানুষ এলে এখানে সিলিং দেয়া হবে।

সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ মো. ফজলে রেজা সুমন। স্বাগত বক্তব্য দেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন-চলতি দায়িত্ব) মো. নুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ মো. নুরুল্লাহ, স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান প্রমুখ। সংলাপ শেষে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে ঢাকাই ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ