আবিদের উক্তি ব্যঙ্গ করে ভিডিও শিবির কর্মীদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আবিদের উক্তি ব্যঙ্গ করে ভিডিও শিবির কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ৫:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ৫:০৭ অপরাহ্ণ

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবিদুল ইসলাম খানের ‘প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’ উক্তিটি ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধ এমন অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ডাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় নাইমুর রহমান নামে ইবির অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে আবিদুল ইসলাম খানের এই উক্তিটি ব্যঙ্গ করে ভিডিও পোস্ট করেন। পরে এটি ভাইরাল হলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৬ সেকেন্ডের মূল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ‘তুমিও জানো আমিও জানি, সাদিক কায়েম পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেন তারা। পাশাপাশি ‘প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’ উক্তি নিয়েও ব্যঙ্গ করেন। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কাঁটছাট করে শুধু ‘প্লিজ কেউ ছেড়ে যাইয়েন না’ অংশ প্রচার করা হয়।

ভিডিওতে থাকা শিক্ষার্থীরা হলেন— ওমর ফারুক (ইইই ২০-২১ সেশন), নাহিদ হাসান (আল কুরআন ২০-২১), নাইমুর রহমান (অর্থনীতি ২১-২২), সোহান (আইন ১৭-১৮), রোকনুজ্জামান রোকন (মার্কেটিং ১৯-২০), মোজাম্মেল (দাওয়াহ ২১-২২), আবদুল্লাহ নুর মিনহাজ (আল হাদিস ২০-২১)।

তারা ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের হল ও ফ্যাকাল্টির নেতাকর্মী।
এ নিয়ে ফেসবুকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান লেখেন, পাঁচজন শহীদের রক্তে ভেজা ঐতিহাসিক এই লাইনটুকুও শিবিরের উগ্রতা থেকে রেহাই পায়নি। আমি বিশ্বাস করি এই উগ্রতায় পুরো জাতি লজ্জিত হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা লেখেন, কথাটাতে ভুল কই? আবিদুল জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে ৫ আগস্টে গুলিবর্ষণের মধ্যে বলেছিলেন ‘প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’।

কিন্তু আমরা কেউ এক সঙ্গে থাকতে পারিনি। সবাই বিভক্ত হয়ে গেছে। গুজব, হিংসা, অবিশ্বাস দানা বেঁধেছে। তাই বলে কি অভ্যুত্থান মিথ্যা হয়ে যায়? ঐক্যের বাণী মিথ্যা হয়ে যায়? এটাই প্রশ্ন রেখে যাব আপনাদের কাছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী লেখেন, এসব স্টুপিডিটি বন্ধ করতে হবে।

আবিদের রাজনীতি আপনার পছন্দ না হতে পারে। কিন্তু সে জুলাইয়ের নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা। তার বক্তব্যটা জুলাইয়ের অনবদ্য দলিল।
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম লেখেন, “ ‘প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’ বাংলা ব‍্যাকরণে একটি অনুরোধসূচক বাক্য কিন্তু এর প্রভাব আন্দোলের সেই মুহূর্তে ছিল অসীম। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো- ‘বহু মানুষের রক্ত, অনেক পরিবারের অশ্রু ও আত্মত‍্যাগের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের কোনো মুহূর্তকে নিয়ে ব‍্যঙ্গ করবেন না। এটা জাতি হিসেবে অত‍্যন্ত লজ্জার। মনে রাখবেন ব‍্যক্তি থেকে দল বড়, দল থেকে দেশ!”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবিরকর্মী ওমর ফারুক বলেন, ‘ভিডিওটা তো আংশিক কেটে দিয়েছে। সেখানে মেঘমল্লার বসুকে ব্যঙ্গ করে ‘তুমিও জানো আমিও জানি, সাদিক কাইয়ুম পাকিস্তানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া জুলাই সংশ্লিষ্ট আবিদ ভাইয়ের অবদানকে কটাক্ষ করার চিন্তা থেকে এই ভিডিও তৈরি করিনি। মূলত নির্বাচনকালীন তিনি যে ভঙ্গিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ওই বিষয়টা তুলে ধরা হয়েছে। জুলাইয়ে কারো অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও এই ভিডিও দেখে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ওরা কিছু বন্ধুরা মিলে মজার ছলে ভিডিওটি করেছেন। পরে বুঝতে না পেরে ফেসবুকে দিয়েছেন। কিন্তু একটা মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইস্যু ক্রিয়েট করার জন্য আংশিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়াচ্ছেন। ওই ভিডিওতে তারা সাদিক কায়েমকে নিয়েও ট্রল করেছেন। ভিডিওতে থাকা কয়েকজন জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, নির্যাতিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের এখন জুলাইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। আবিদ ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পূর্ব মুহূর্তে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নেতা আবিদুল ইসলাম খান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্লিজ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’। তার এ আহ্বান আন্দোলনকারীদের শক্তি, সাহস আর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ