আমন মৌসুম শেষ হলেও ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ২:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ২:১৭ অপরাহ্ণ

ফকির শহিদুল ইসলাম,খুলনা
আমন মৌসুম শেষ হলেও কৃষকদের কাছ থেকে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ। খোলা বাজারে মূল্য বেশি পাওয়ায় সরকারি গুদামে ধান নিয়ে আসেনি কৃষক। আবার কালো তালিকা থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে লোকসানে চাল দিচ্ছেন মিল মালিকরা। ইতোমধ্যে মাঠের সিংহভাগ আমন ঘরে তুলে খোরাকি রেখে বেচাকেনা শেষ করেছেন কৃষকরা। ফলে এবার আমন মৌসুমে নেয়া সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে। তবে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ চাল সংগৃহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সরকার ২০২২-২৩ আমন মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২৮ টাকা কেজিতে দরে প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ১২০ টাকা। আর ৪২ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু করে গত ১৭ নভেম্বর। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭০ শতাংশ, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৯০ শতাংশ ও ২৮ ফেব্র“য়ারির মধ্যে শতভাগ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সূত্রে জানা গেছে, বাজারে যে মূল্যে ধান ও চাল বিক্রি হচ্ছে, সরকারিভাবে নির্ধারিত দাম তার চেয়ে কম। এ কারণে কৃষক ও চালকলের মালিকেরা সরকারের কাছে ধান ও চাল বিক্রি করতে আগ্রহী নন। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর আমন মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় ও দেরিতে ধান রোপণ করায় উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। এদিকে, বাজারমূল্যের থেকে সরকারি মূল্য কম থাকায় তারা খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছেন না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। ওই কার্যক্রম চলবে ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। খুলনায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪১ মেট্রিক টন। আর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩২ মেট্রিক টন। ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চালকলের মালিকেরা খাদ্যগুদামে ৪ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন চাল দিয়েছেন। অপরদিকে, ধান সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার বিপরীতে এখন পর্যন্ত এক ছটাক ধানও সংগ্রহ হয়নি।
জানা গেছে, সরকার প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করেছে এক হাজার ১২০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ধানের দাম এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৪০০টাকা। অন্যদিকে, সরকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারিত রয়েছে ৪২ টাকা। কিন্তু ৪৫ টাকার কম দামে বিক্রি করলে চালকলের মালিকদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণে কেউ সরকারের কাছে ধান ও চাল বিক্রি করতে আগ্রহী হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ধান ও চালের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়। অনেকেই ধান বিক্রি করতে আবেদন করেছেন, কিন্তু কেউই এখনো ধান নিয়ে আসেননি। অন্যদিকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বারবার চাল কলের মালিকদের সাথে বৈঠক করা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিন্ত্রয়ক মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আসছে না। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে আমরা সফল। কেননা বাজারে আমাদের চেয়ে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন কৃষক।
তিনি আরও বলেন, এবছর চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৪১ মেট্রিক টন, সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার মেট্রিক টন। সর্বমোট সরকারি গুদামে খাদ্য মজুদ অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি বলে তিনি দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত্ব, খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে ২০১৯-২০ মৌসুমে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছিল ৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন।
জনতার আওয়াজ/আ আ