আমরা কোন অন্যায়ের সহায়তাকারী নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২৩ ১০:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২৩ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

বরিশাল প্রতিনিধি
নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আহসান হাবিব খান বলেছেন, আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে একটি অংশগ্রহনমূলক ও গ্রহনযোগ্য সুষ্ঠ নির্বাচন করার। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। ভোটার যেন ভয়ভীতিহীনভাবে কেন্দ্রে যেতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করবেন। নির্বাচনে কোন দল আসলো না আসলো, সেটি রাজনৈতিক। আমার সাংবিধানিক দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। এখনো আমি মনে প্রাণে চাই সকল দলের অংশগ্রহনে উৎসবমুখোর হোক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীর নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে আজ রবিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্মকর্তাদের সাথে ঘন্টাকাল ব্যাপি রদ্ধদার সভা শেষে গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন মনে করে সকলের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষভাবে পালন করবেন। দায়িত্ব পালনে কখনো দলীয় মনোভাব পোষণ করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কখনো অতি উৎসাহী হয়ে এমন কোন আচরণ করবেন না যাতে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বরিশাল সিটি নির্বাচনে কমিশন বলেছিল সুষ্ঠু ভোট হবে। কিন্ত সেই নির্বাচনে প্রার্থীর ওপর হামলা হলো। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ওপর হামলা হবে না তার নিশ্চয়তা কিভাবে দিবে কমিশন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি সবসময়ে একটা কথা বলি অতীতকে কখনো পরিবর্তন করা যায় না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন নির্বাচন করবো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য যেন এই নির্বাচন অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আপনারা বরিশালের অনেক নির্বাচন দেখেছেন। গত সিটি নির্বাচনও দেখেছেন। ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারে না।
বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা আন্তরিক। ব্যক্তিগতভাবে তাদের (বিএনপি) সাথে কথা বলেছি। কমিশন অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাওয়াত দিয়েছি। বলেছি, আসেন-দেখেন কাছে থেকে। আমি কতটুকু খারাপ বা ভালো তা কাছ থেকে বিবেচনা করেন। এসময় গণমাধ্যনমকর্মীদের প্রতি আহবান রেখে বলেন, সংবাদমাধ্যম আমাদের প্লাটফর্ম। নির্বাচনের দিন যা দেখবেন তা প্রচার করবেন। কেউ এসে যদি বলে ভোট দিতে দিচ্ছে না, ব্যালট নিয়ে যাচ্ছে বা সিল মেরে দেওয়া হচ্ছে সেটাই প্রচার করেন। আমরা কোন অন্যায়ের সহায়তাকারী নয়। কোন পার্টিবাজী বা পক্ষপাতিত্বমূলক নয়। নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটে ভোটার উপস্থিত করার দায়িত্ব প্রার্থীর। আমাদের তরফ থেকে দায়িত্ব হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত সবগুলো নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মোতায়েন হবে কিনা সে বিষয়ে আমাদের মিটিং আছে। অন্য নির্বাচনের মত আমাদেরও ইচ্ছা আছে। তবে কার্য পরিধিটা নির্ধারণ করা হবে। ব্যক্তিগত মতামত যদি বলি, সেনা বাহিনী টহলে থাকবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিভ্রমণ (পেট্রালিং) অবস্থায় থাকবে।
এছাড়া তিনি সভায় নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে কোন ধরণের বাঁধা প্রদান যেন না করা হয় সেজন্য বলেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী ও পোলিং এজেন্ট হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী, রেঞ্জ ডিআইজি জামিল হাসান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম, বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামসহ নির্বাচন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ