আমরা জানি এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যাবে না: মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৪১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আমরা জানি এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যাবে না: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ৫:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ৫:৫০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা জানি মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাবে না। কিন্তু ওরা (আওয়ামী লীগ) সন্ধ্যার পরে নাটকের মতো সেন্টার তৈরি করে বলবে আমরা জিতেছি। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, আমরা জানি মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাবে না। কিন্তু ওরা (আওয়ামী লীগ) সন্ধ্যার পরে নাটকের মতো সেন্টার তৈরি করে বলবে আমরা জিতেছি। চতুরদিক দিক থাকে শোনা যাচ্ছে, গার্মেন্টস সেক্টরের উপর নিষেধাজ্ঞা আসবে, বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। কিন্তু সে কথা তারা ভাবছে না। তারা বলছে সব কিছু আমরা দেখব, পরে কী হয়। আমি আপনাদের (শ্রমিকদের) অনুরোধ করব, আপনারা আপনাদের ন্যায্য সংগ্রামের সাথে ভোটাধিকারের যে সংগ্রাম চলছে সে লড়াই অব্যাহত রাখুন। শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব।

তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর একজন পুলিশ মারা গিয়েছে, এর জন্য আমরা দুঃখিত। এই পুলিশরা ডিউটি করে, আমাদের উপর লাঠির বাড়িও দেয়। জানি, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের চাকরি রক্ষার জন্য করতে হয়। কিন্তু একই দিনে এবং তার আগে এই দেশে শ্রমিকরা আন্দোলন করতে গিয়ে ৪ জন মারা গেল। ওই ৪ জনের কথা কেউ বলে না। সরকার টিভিতে লাগাতারভাবে একটা (বিএনপির) ঘটনা বলে। কিন্তু যারা শ্রমিক যারা ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করেছে, বাঁচার জন্য লড়াই করেছে তাদের কথা তারা বলছে না। বরং বলছে আন্দোলন যদি করো, শেষ পর্যন্ত আমও যাবে ছালাও যাবে। হুমকি দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আমলা যারা দুই দিন আগে চাকরি ছেড়েছে আজকে তারা নমিনেশন নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও তার অফিসে বসে তার দলের লোকজনদের নমিনেশনের পেপারে সিগনেচার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অফিস কী রাজনৈতিক অফিস?

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশের ইতিহাস শ্রমিকদের আন্দোলনের ইতিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার জন্য প্রত্যেকটি লড়াইয়ে শ্রমিকরা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে। অতীতের সকল ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে সফল করেছে এই শ্রমিকরা। কিন্তু ফলাফল হয়েছে শূন্য।

‘শ্রমিদের পক্ষে আইন তৈরি হয় নাই। তাদের জীবন মান রক্ষা করার জন্য, তাদের ন্যায্য মজুরির জন্য যে বিধি-বিধান, আইনী কাঠামো তৈরি করার দরকার ছিল সেটি করা হয় নাই। আর আজকে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার বিনা ভোটে জনগণের ভোট ছাড়া দুইবার ক্ষমতা দখল করে আছে। আর আগামীকালও আরেকবার চতুর্থ দফা নবায়নের জন্য একটা নীল নকশার নির্বাচনের পথে হাঁটছে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বাংলাদেশে যত আন্দোলন হয় সে আন্দোলনগুলো যত ন্যায্যই হোক সে আন্দোলনগুলো যদি জয় লাভও করে, তাহলেও আপনারা দেখবেন যারা সেসব আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আসলে কোন ধরনের বিচার পায়না। আজকে দেখবেন বাংলাদেশের আইন-কানুন এরকম, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট তারাই করবেন, যারা সেদিন গুলি চালিয়েছিল। কারা চার্জশিট দিবেন? কারা রিপোর্ট দিবেন? কারা বিচার করবেন? তারা সবই হচ্ছে যারা আজকে শ্রমিকদের হত্যা করে, যারা সাধারণ মানুষদের হত্যা করে। তারাই এই বিচারগুলো করে।

শ্রমিক হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, কর্মচূত্যদের পুনর্বহাল, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, গার্মেন্টস শিল্প ঘোষিত মজুরি প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং ন্যূনতম মুজুরি ২৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, নির্বাহী সমন্বয়ক আব্দুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিকনেতা নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ