আরও এক দফা সংশোধন হচ্ছে নির্বাচনি আচরণবিধি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৪৯, সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আরও এক দফা সংশোধন হচ্ছে নির্বাচনি আচরণবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দরজায় কড়া নেড়েচেড়ে আসছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সারাদেশে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা ইতিমধ্যেই জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য বাড়ি-ঘর, পথ-পার্ক ও জনসমক্ষে ছুটছেন।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আচরণ বিধিমালায় কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ভোটার স্লিপ এবং মাইক ব্যবহার সংক্রান্ত বিধানগুলোতে সংশোধন আনা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক ও প্রার্থীর নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তা আসছে।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে আচরণ বিধিমালায় এমন একটি বিধান রয়েছে যা ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে মানা করে। এই বিধানের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকায় কমিশন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিধিমালা সংশোধনের পর ভোটারদের কাছে ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম যুক্ত করা যাবে, এবং এটি কোনোভাবে বাধাপ্রদর্শক হবে না।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করেছিল। এ প্রেক্ষাপটেই মূলত এই সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, “হ্যাঁ, আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপ সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সংশোধিত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ভোটের ব্যবস্থার জন্য পাঠানো হয়েছে।”

অপরদিকে, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ঢাকা মেইলকে জানান, আচরণ বিধিমালায় দুটি বিষয় সংশোধন করা হচ্ছে। প্রথমটি হলো মাইক ব্যবহারের শর্তে কিছু নমনীয়তা আনা। পূর্বের বিধান অনুযায়ী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও এখন প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়টি হলো ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক এবং দলের নাম ব্যবহারের ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া।

বর্তমানে ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় কেবল ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে সংশোধনের পর প্রার্থীর নাম, প্রতীক এবং দলের নামও ভোটার স্লিপে যুক্ত করে বিতরণ করা সম্ভব হবে, যা প্রার্থীদের প্রচারণায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আচরণবিধির একটা বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ভোটার স্লিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক। সেক্ষেত্রে ভোটার নম্বর, প্রার্থীর নাম, প্রতীক ইত্যাদি ভোটার স্লিপের মাধ্যমে পেলে সহজ হয়। আমরা বলেছি, এগুলো কিছু পুনর্বিবেচনা করা দরকার। আচরণবিধি যেহেতু ইলেকশন কমিশন নিজেরাই পরিবর্তন করতে পারবে, সুতরাং এ বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া। কারণ প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবে।

‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর ৮ ধারায় ভোটার স্লিপ ব্যবহারের বিধিনিষেধ উল্লেখ করে বলা হয়েছে- (ক) ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ প্রদান করিতে পারিবেন, তবে কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজের মধ্যে উক্ত ভোটার স্লিপ বিতরণ করিতে পারিবেন না।

(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত ভোটার স্লিপ ১২ (বারো) সেন্টিমিটার × ৮ (আট) সেন্টিমিটার আকারের অধিক হইতে পারিবে না, এবং উহাতে প্রার্থীর নাম বা ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক বা ভোট প্রার্থনা করিয়া কোনো কথা বা এইরূপ ইঙ্গিতবহ কিছু উল্লেখ করিতে পারিবেন না।

(গ) মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখবিহীন কোনো ভোটার স্লিপ মুদ্রণ করিতে পারিবে না।

আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে সেখানে উল্লেখ থাকবে- প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নামসহ ভোটার স্লিপ তৈরি করে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ ভোটারদের প্রদান করতে পারবেন প্রার্থীরা।

প্রচারণায় মাইক ব্যবহার বিষয়ে বলা হয়েছে- (১) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনি এলাকায় একইসঙ্গে ৩ (তিন) টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করিতে পারিবেন না।

(২) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার সময়কালে কোনো নির্বাচনি এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২ (দুই) ঘটিকা হইতে রাত ৮ (আট) ঘটিকা সীমাবদ্ধ রাখিবেন।

(৩) নির্বাচনি প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ (ষাট) ডেসিবেলের অধিক হইতে পারিবে না।

আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীরা মাইক ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করার পরও এক দফা সংশোধন করে ইসি। ওই সময় ইসি জানায়, কিছু করণীক ভুল থাকায় সংশোধন করা হয়। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনী আনা হচ্ছে আচরণ বিধিমালায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ