আ'লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী? - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আ’লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ১১, ২০২৫ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ১১, ২০২৫ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার না হওয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের পর গত রাতে উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণহত্যায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাকর্মীর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনে শুরু থেকে বিএনপি দূরত্ব বজায় রাখলেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, চরমোনাইর পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলাম সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, লেবার পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন খোলাখুলি সমর্থন দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়।

তবে জামায়াতে ইসলামীর মধ্যম সারির নেতা এবং কর্মী-সমর্থক ব্যাপক সংখ্যায় অংশ নিলেও, দলটি আগের দু’দিন আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। গতকাল রাত ১০টার দিকে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ। জনতা দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবে। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি শাহবাগে গিয়ে উল্লাসকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

আগের রাতে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকেলে শাহবাগে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে হয় গণজমায়েত। একই দাবিতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় একই কর্মসূচি পালন করা হয়। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি আদায়ে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে এলাকায় আগের রাতে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করা হলেও, এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আহ্বানে তা তুলে নেওয়া হয়।

নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের বিরোধী বিএনপির সমমনা দলগুলোও সরাসরি শাহবাগে যোগ দেয়নি। গত আগস্ট থেকেই বিএনপি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, এখন যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলছে, কয়েক দিন পর তারাই যে বিএনপিকে নিষিদ্ধের দাবি করবে না, নিশ্চয়তা কী!

চট্টগ্রামে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৮ কোটি মানুষের কেউ আওয়ামী লীগকে চায় না।

তবে এ বিষয়ে শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার চাইলে আইন-আদালতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে।

এছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি যতটা না আইনগত, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিষয়। তাই রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের মতৈক্য প্রয়োজন। নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সংকটের সমাধান করবে না।

জানা যায়, এর আগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা এসেছিল। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর দলটিকে নিষিদ্ধ করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এলো।

সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আগামীকাল সোমবার জারি হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে শনিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুসারে-আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে দলটির বিচার হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে আনন্দিত বিএনপি উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছি। বিলম্ব হলেও অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে আনন্দিত।

রোববার দলটির সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাড. মো. তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিলম্বে হলেও গতরাতে অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুম, খুন, নিপীড়ন, জনগণের বিরুদ্ধে অপশাসন চালানো ফ্যাসিবাদী’ দলের বিচার করার সিদ্ধান্তকে বিএনপি সঠিক বলে মনে করে।’
বিলম্বে হলেও গতরাতে অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসীবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুম, খুন, নিপীড়ন, জনগণের বিরুদ্ধে অপশাসন চালানো ফ্যাসিবাদী’ দলের বিচার করার সিদ্ধান্তকে বিএনপি সঠিক বলে মনে করে
মির্জা ফখরুল

বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ও এপ্রিল মাসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপারাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়াতেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব ও উচিত বলে তারা জানিয়েছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে, আইনি প্রক্রিয়াতেই ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব ও উচিত। … উল্লেখযোগ্য যে, আমরা প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বলেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আগ মূহুর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপি।’

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, আমাদের দাবি মেনে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে চাপের মুখে ব্যবস্থা নেওয়ার মত বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত অবস্থায় সরকারকে পড়তে হতো না। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মনে রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ