আ’লীগের বিচার শুরুর আগে কোন নির্বাচন হবে না: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, আমরা বলি না বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিচার শুরু এবং কিছু প্রক্রিয়া শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ ও খুনি হাসিনার বিষয়ে যদি কোন সুরাহা বাংলাদেশে না হয়, তাহলে আমরা যদি কোন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগহণ করি, সেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে বাংলাদেশে হবে না।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় নাগরিক কমিটি (জানাক) আয়োজিত ‘জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন: জুলাই হত্যাকাণ্ডের ব্যবচ্ছেদ, দায় ও বিচার’- শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগের সামনে বিচার ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের প্রথম কাজ আওয়ামী লীগকে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে কোন ক্ষেত্রে ধীরগতি বা নীরবতা অবলম্বন করেন তাহলে হয়তো জনগণ রাজপথে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। সেই পরিস্থিতির দিকে যদি বাংলাদেশ যায়, তাহলে আমরা মনে করি দেশে একটি গৃহযুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন দেশের মানুষের সামনে নতুন একটি সংকট সৃষ্টি হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ওনাদের চামড়া গন্ডারের চামড়ার মতো। ওনাদের ছয় মাস আগে কোন কিছু বলা হলে, সেটি ছয় মাস পরে দেখা যায়। যাদের চামড়া গন্ডারের মতো, তাদের বলব চামড়াগুলো একটু পাতলা করুন। আপনারা যদি আওয়ামী লীগের বিচার প্রশ্নে ধীরগতি দেখান, তাহলে মানুষ আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। আপনাদের অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সরকারে বসিয়েছে। আপনারা যদি সচিবালয় বা অফিসগুলোকে কোনো দামি রিসোর্ট বা হোটেল মনে করেন, তাহলে ভুল করবেন। মানুষ এখনো রাজপথে আছে, বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় আছে। আমরা অনক ক্ষেত্রে মানুষকে নিবৃত করে রাখছি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক বলেন, উনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক বড় বড় কথা বলতেন। কিন্তু যখনই তিনি চেয়ারে বসে গেছেন, উনার চেয়ারের গদি অনেক মোটা হয়ে গেছে। সুতরাং, যারা আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল জায়গায় আছেন তাদের বলব, জনতা আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব পালনে আপনারা বাধ্য। এখানে অবাধ্য হওয়ার সুযোগ নেই। যদি মনে করেন অবাধ্য হবেন, কোন কানা গলি দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করবেন, কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে পরবর্তী সরকারে আসার পথ পরিষ্কার করবেন, এই সুযোগ আপনাদের বাংলাদেশ আর দিবে না। কারণ, আপনারা যে চেয়ারে বসেছেন সেটা শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে বসেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এখনো ধৈর্য্য ধারণ করছি। কে কোথায় কি করছেন, সেসব বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা যখন আবার মাঠে নামব, তখন আর আপনাদের দ্বিতীয় সুযোগ দিব না। আমরা এই সরকার থেকে আওয়ামী লীগের বিচার বুঝে নিব। এই সরকারের সামনে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। আমরাও কেউ দাবি করছি না, প্রমাণ হয়েছে। এ জন্যই আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা বলছি। ৫ তারিখের পরেও মানবাধিকার লঙ্ঘণের ঘটনাও এখানে এসেছে। এগুলো নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন, যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাকে আমি ঝুলিয়ে দেব? তা হবে না। আমার অনেক রাগ, ক্ষোভ থাকতে পারে কিন্তু আন্তর্জাতিক মান অনুসারে এগোতে চাই, নতুন সমাজ গড়তে চাই তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, আমরা এভাবে চলবো কিনা। এই মূহুর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ, আহতদের পাশে দাঁড়ানো। এখন বিভেদ আমাদের প্রয়োজন নেই। আমাদের নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জানাকের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, যারা এত গুম, খুন ও মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়াসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করল, তারা যেন কোনভাবে পার না পায়। সরকারকে এই জায়গায় কাজ করতে হবে। যেখানে জাতিসংঘের রিপোর্টে সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শেখ হাসিনার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে সেখানে এখনো সরকার ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিচার বিষয়ে আলাপ শুরু করতে পারেনি। মানুষের যে দাবি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিচার করার জন্য দেশের সমস্ত অঙ্গগুলোকে কাজে লাগাতে হবে পাশাপাশি জাতিসংঘের সহায়তা নিতে হবে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, এটা যদি কোন ডমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন হত সেক্ষেত্রে কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সাথে মিলে নানা ধরনের কথাবার্তা বলতেন সেটাকে ডিসমিস করার জন্য। কিন্তু যখন জাতিসংঘের মত একটা আন্তর্জাতিক বডি থেকে যেটা গোটা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা রিপোর্ট বের হয় সেটা কিন্তু উড়িয়ে ফেলাটা এতো সহজ নয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইউএন এর এই রিপোর্টটাকে কংক্রিট এভিডেন্স হিসেবে ট্রিট করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চীফ প্রসিকিউটর যিনি আছেন তিনি বলেছেন এটা কংক্রিট এভিডেন্স হবে ট্রায়ালে। এটা কিন্তু কংক্রিট এভিডেন্স হতে পারে না। হতে পারে না কারণ হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড অফ প্রুফ আরও অনেক হাই। তাই এখানে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। যেটার কারণে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া হয়তো ঠিক মতো হবে না, হয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই তড়িঘড়ি করে বিচার করলে হবে না।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ