আ’লীগ নেতা আজিজুল মুন্সীর রহস্য ঘেরা ‘ফুড কর্ণার’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার
ছবি : প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল মুন্সীর ‘ফুড কর্ণার’ রেস্টুরেন্ট ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। খড় ও লতাপাতা দিয়ে তৈরি করা অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে প্রতিনিয়ত উঠতি বয়সী ছেলে—মেয়েদের আড্ডায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দেরও এই রেস্টুরেন্টে আনাগোনা বাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস সংলগ্ন ‘ফুড কর্ণার’ রেস্টুরেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক এবং বয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আজিজুল মুন্সী। তিনি বিগত আওয়ামী লীগের সময় নিয়মিত মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বাইপাসে শিক্ষার্থীদের মিছিল প্রতিহত করতে নেতাকমীর্দের নিয়ে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তোলেন।

অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাকমীর্রা গা ঢাকা দিলেও তিনি মাস্ক পড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। পরিচালনা করছেন ‘ফুড কর্ণার’। স্কুল—কলেজ গামী ছেলে—মেয়েদের জন্য চারদিক খড় দিয়ে ঢাকা রুমও রয়েছে রেস্টুরেন্টে। এতে ছেলে—মেয়েরা বিপথে যাওয়ার আশংকা করছেন অভিভাবকরা।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ও অভিভাবক বলেন, বাইপাস এবং আসপাশের রেস্টুরেন্টগুলো ছোট ছোট আকর্ষণীয় ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে ছেলে—মেয়েদের বসা ও শুয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছে। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা ছেলে—মেয়েরা সেখানে সময় কাটাচ্ছে। ‘ফুড কর্ণার’ রেস্টুরেন্টও তার ব্যতিক্রম নয়। এটি খড় ও গাছগাছালি দিয়ে তৈরি করে কাস্টমার টানছে। ছেলে—মেয়েদের আড্ডা লেগেই থাকে। সমাজ নষ্ট হওয়ার জন্য এসব রেস্টুরেন্ট মালিকরা অনেকটা দায়ী।
ফরিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক বলেন, আজিজুল মুন্সীকে আমি ভালো ভাবেই চিনি। সে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। জুলাই—আন্দোলন দমন করতে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার হিসেবে সে আওয়ামী লীগের সময় বিরাট প্রভাব খাটিয়েছে। এখনও ঠিকাদারী লাইসেন্স ব্যবহার করে নানা সুবিধা নিচ্ছে। সে একজন ফ্যাসিস্ট হিসেবে কিভাবে এখনও ওপেন ঘুরাফেরা করছে তা বোধগম্য নই। তার রেস্টুরেন্টে তো আওয়ামী লীগ নেতাদের নানা পরামর্শ হয়।
জুলাই আন্দোলনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেয়া আলী হোসেন বলেন, আজিজুল মুন্সীর রেস্টুরেন্টে এমন অসামাজিক কার্যক্রমে সমাজ বিপথে যাচ্ছে। যেহেতু অভিযোগ রয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকমীর্দের নিয়ে পরামর্শ হয় সেহেতু সেখানে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো প্রয়োজন।
সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এসব রেস্টুরেন্টে ছেলে—মেয়েদের অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। তরুণ—তরুণীরা বিপথগামী হচ্ছে। যার ফলে পরিবার ও সমাজে অশান্তি বাড়ছে। সেখানে যেকোন অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে সেই দাবি করছি।
অভিযুক্ত ‘ফুড কর্ণার’ রেস্টুরেন্টের মালিক আজিজুল মুন্সী বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি তবে আমার কোন পোস্ট পদবী নেই। জুলাই আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। রেস্টুরেন্টে ছেলে—মেয়েরা আসলেও অসমাজিক কোন কাজ হয় না। এখানে কোন ষড়যন্ত্রও হয় না।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় কেউ যদি এমন কোন কাজে লিপ্ত থাকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল মুন্সীর ‘ফুড কর্ণার’ রেস্টুরেন্ট ঘিরে নজরদারী বাড়ানোর পাশাপাশি তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ