আ’লীগ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মন্দির দখলের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৪ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৪ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার লোকজন কর্তৃক মিরপুরের পল্লবীর শ্রী শ্রী গৌর নিতাই মন্দির দখল ও সেবায়েতদের উপরে মারধরের ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে মন্দিরের সেবায়েত ড. সুবেন্দু তালুকদার বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ছত্রছায়ায় সুধীর গং কর্তৃক আমাদের শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দির দখল, আমাকে ও আমার সাথে থাকা মন্দিরের ভক্তবৃন্দদের অমানবিক নির্যাতনসহ নানাবিধ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও সর্বশেষ আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অন্যায়ভাবে ২০১৮ সালে মন্দির থেকে বের করে দেয়া হয়। বের করে দেওয়ার পর আমি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থানা, জেলা প্রশাসক আর্মি দপ্তর সহ সর্বোচ্চ যোগাযোগ করেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে আমাদের মন্দিরটি আমরা ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছি। তাদের দ্বারা আমার প্রাণনাশের হুমকি থাকায় আমি কিছু সরকারি দফতরে চিঠিপত্র দেওয়া সহ সামান্য কিছু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ২৫ মে বিগত মিরপুরের ক্যান্টনমেন্টস্থ ১২ নং চাকুলী মন্দির ও পূজা কমিটি মন্দিরটি পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে মন্দিরটি যথাযথ উন্নায়ন ও সুস্থ পরিচালনার জন্য অধ্যাপক ড. নির্মলকান্তি মিত্র, মিরপুর ডি ও এইচ এস সংলগ্ন অবসর প্রাপ্ত হিন্দু সেনা কর্মকর্তাগণ ও জনসাধারণের বৈঠকের মাধ্যমে সরকারি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দালিলিকভাবে আমাদের পরিচালনা কমিটির নিকট মন্দিরটি হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরের পর জানা যায়, মন্দিরের যে জায়গাটা আমাদেরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই দাগ নাম্বারের জমি এটি নয়।
‘পরে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা মিটিয়ে মূল মন্দির নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার সহযোগিতায় সুধীর গং কর্তৃক মন্দির দখলের অপচেষ্টা শুরু করে এবং তারই ধারবাহিকতায় ২০১৮ সালে ইলিয়াস মোল্লা নিজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুধীর গং এর মাধ্যমে পূজার নামে আমাকে হস্থান্তর করা অস্থায়ী মন্দিরে আমাকে ও আমার ভক্তদের মারধর করে এবং মন্দিরের প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।’
‘পরে আমি মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সহযোগিতায় স্থানীয় থানায় সুধীর গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন। চুক্তি অনুযায়ী মেট্রোরেল বরাদ্ধকৃত জায়গায় মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় মন্দিরটি বেআইনিভাবে দখল করে নেয়া হয়। ’
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সুধীরের দেয়া মন্দির হস্তান্তরের জাল জালিয়াতির মামলাটি কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। পিবিআই তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে কোন জাল জালিয়াতি বা প্রতারণা হয় নি।
‘আমরা চাই সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা সহ সুধীর গংদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ সকল ভক্তদের জন্য মন্দির উন্মুক্ত করে সকলের প্রার্থনায় সুযোগ করে দিয়ে সেবায়েত ও মন্দিরে থাকা ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, ঢাকা প্রনবমঠ অধ্যক্ষ শ্রী গনেশ মহারাজ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালীপদ মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. বাসুদেব গৃহ, দপ্তর সম্পাদক গোপাল চন্দ্র মন্ডল, হিন্দু যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন গোস্বামী পুলক, হিন্দু ছাত্র ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজয় কুমার প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ