আ’লীগ সরকার লাইফ সাপোর্টে আছে : আরিফ হাওলাদার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ২১, ২০২৩ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ২১, ২০২৩ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
মৌলভীবাজারে বর্নাঢ্য র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে।
রোববার (২০ আগস্ট) বিকেলে এ উপলক্ষে নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা জেলা শহরের সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) পৌর ঈদগাহ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জি এম এ মুক্তাদির রাজু’র নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী এ বিশাল বর্নাঢ্য র্যালি বের করেন। এতে কয়েক হাজার নেতা কর্মী অংশ নেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা হলুদ টুপি মাথায় পড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবি সম্বলিত ফেস্টুন বানিয়ে র্যালিতে অংশ নেন। নেতাকর্মীরা তখন চোর চোর ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর, স্বেচ্ছাসেবক জনতা, গড়ে তোল একতাসহ নানা সরকার বিরোধী স্লোগানে মুখরিত করে তোলে।
র্যালিটি শাহ মোস্তফা সড়ক হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পশ্চিম বাজার মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির সদস্য সচিব আহমেদ আহাদের পরিচালনায় ও সংগঠনের আহ্বায়ক জি এম এ মুক্তাদির রাজু’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফ হাওলাদার। এতে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা জাকির হোসেন উজ্বল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী। এ সময় স্বেচ্ছা সেবক দলের জেলা, পৌর ও বিভিন্ন উপজেলা ইউনিটের নেতাদের উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফ হাওলাদার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধার সাথে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বলেন ‘তারেক রহমান আমাদের ভাই এবং বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মা আজ কারা বন্দি। তাই ভাই আর মাকে মুক্তির জন্য মৌলভীবাজারের জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের যেমন মনের অবস্থা ভালো না তেমনি আওয়ামী লীগের অবস্থাও ভালো না। আওয়ামী লীগ এবং সরকার উভয়ই লাইফ সাপোর্টে আছে। কোনো লাইফ সাপোর্টের রোগী ভাল থাকতে পারে না। কাজেই জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মধ্যে আমাদের অঙ্গীকারে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান যে এক দফার দাবি দিয়েছেন সেই একদফার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এই লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’
জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন ‘এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের দ্বার প্রান্তে। আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ এ অবৈধ নিশিরাতের ভোটের সরকারকে না বলে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস এই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের মানুষ এই গণবিচ্ছিন্ন সরকারের পতন দেখতে পারবে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনা বিহীন স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের বিজয় উল্লাস করবে। দুটি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। সেটা হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর আর শেখ হাসিনার পতন। আওয়ামী লীগের নেতারা মুখে যতই লম্বা কথা বলুক না কেন বাসায় খবর নিয়ে দেখেন রাত্রে তাদের ভালো মতো ঘুম হয় না। এদেশের মানুষ তাদের পরিণতি কি করবে- কি করতে পারে এ চিন্তায় তারা নিদ্রাহীন রাত পার করছে। যতই আনন্দ বাজার যতই ডয়চে ভেলে দিয়ে যতই লিখান না কেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঠোতে পারবেন না। পতন সুনিশ্চিত।
আজকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্মদিন পালন করেছেন এইভাবে আগামীর রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের যেসকল কর্মসূচি দেবেন প্রত্যেকটি কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা দিয়ে পালনের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র, ভোটাধিকার ও নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবে’।
জি এম এ মুক্তাদির রাজু বলেন, আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে প্রতিটি নেতাকর্মীকে শপথ নিতে হবে। তীব্র থেকে তীব্রতর গণআন্দোলনের মূখে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করতে হবে। আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে রাজপথে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
র্যালি শুরুর আগে জেলা, পৌর ও বিভিন্ন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঈদগাহের সামনে জড়ো হন। এ দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
জনতার আওয়াজ/আ আ