আসামিদের বিচার করতে না পারলে চেয়ারে বসে আছেন কেন, প্রশ্ন শহীদ পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ৬:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ৬:৩১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আসামি ধরে যদি শাস্তি দিতে না পারে, তাহলে আইন উপদেষ্টা চেয়ারে বসে আছেন কেন? উনি পদত্যাগ করুক। উপদেষ্টারা চেয়ারে বসে আছেন কেন?
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে “আমরা ২৪ জুলাই যোদ্ধা” নামক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শহীদ সায়েমের মা শিউলি আক্তার বলেন, “আমার ছেলে সায়েম ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী কাজলায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। বর্তমানে এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে। কিন্তু, পুলিশ যে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তার কোনো বিচার আমরা পাইনি। আমরা বিচারের জন্য রাজপথে ঘুরছি, কিন্তু বিচার পাই না।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আপনারা কি করছেন? আমাদের ছেলেদের যারা হত্যা করেছে, তাদের ধরে ধরে কেন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে? আসামি ধরে যদি শাস্তি দিতে না পারে, তাহলে আইন উপদেষ্টা চেয়ারে বসে আছেন কেন? উনি পদত্যাগ করুক। উপদেষ্টারা চেয়ারে বসে আছেন কেন? আমরা যেন সন্তানহারা হয়ে গিয়েছি, সেটাই উপদেষ্টারা বুঝতে পারছেন না। আমরা কেন এখন বিচার চাইবো? বিচার চাওয়ার জন্য তো আমাদের ছেলেরা দেশ স্বাধীন করেননি।”
এসময় আহত শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। দেশকে পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছি। ইতিমধ্যে এক বছর পার হয়ে গেছে। আমরা না পেয়েছি নিজেদের স্বাধীনতা, না পেয়েছি অধিকার। আমাদের ভাইরা এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। কিন্তু, ঐদিকে ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের আর্তনাদ আপনাদের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) কানে পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আপনারা কি আরো রক্ত চাই! যারা এ দেশের উর্ধ্বতন কর্মকতা আছেন, তাদের মনে হয় আরো রক্ত চাই।”
“আমরা জুলাই সনদ চেয়েছি। কিন্তু আমরা কি শুধু নিজেদের জন্য এই সনদ চেয়েছি? জুলাই সনদ শুধু একটি সনদ নয়। এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির সনদ। আশা করি, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো তালবাহানা করবেন না। এসি রুমে এবং বিলাসবহুল বাড়িতে বসে আপনারা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিমালা দেবেন না। আপনারা ঐসমস্ত পরিবারের কাছে যান, যারা হারিয়েছে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। যারা তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছে, তাদের কাছে যান। যে শিশু জন্মের আগে তার পিতাকে হারিয়েছে, ঐ পরিবারের কাছে যান। তাদের আর্তনাদ আগে শুনুন। এরপর সিদ্ধান্ত নিন।” —সরকারকে উদ্দেশ্য করে আহত শারমিন আক্তার বলেন।
ফ্যাসিস্টদের দোসরদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যদি মনে করেন আবারও ফিরে আসবেন, তাহলে দ্বিতীয়বার পালানোর রাস্তা পাবেন না।”
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আপনারা কি ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে এখনো নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন? আমাদের ন্যায্য অধিকার দিন। আমাদেরকে হয়রানি করবেন না। আমরা বিভিন্ন তথ্য মন্ত্রণালয়ে বারবার জমা দেই, কিন্তু আমাদের তথ্য ঠিকমতো সাবমিট হয় না। দরকার পড়লে সিস্টেম পরিবর্তন করুন। তারপরও আমাদেরকে হয়রানি করবেন না।”
আহত সায়মান শাহাদাত বলেন, “আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আহত এবং শহীদদের পুনর্বাসন করতে হবে। আসামিরা কেন বাইরে ঘুরে বেড়ায়, এটা আমরা জানতে চাই। যেসব পুলিশ জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, আমরা এটার প্রতিকার এবং প্রত্যাহার চাই।”
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ইমন। সঞ্চালনা করেছেন জুলাইয়ে আহত মো. আল মিরাজ।
বিক্ষোভ সমাবেশে এসময় শহীদ নাজমুল হাসানের পিতা শাহ আলমসহ আহত ও শহীদ পরিবারের আরও অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ