ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রতিরোধে দৃষ্টি ছাত্রদলের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রতিরোধে দৃষ্টি ছাত্রদলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ ২:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ ২:৪৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনেও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিজয়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একইভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটি। তাই ‘নির্বাচনী ম্যাকানিজম’ প্রতিরোধ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের দিকে এখন দৃষ্টি ছাত্রদলের। এ লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। সংগঠনের নেতারা বলছেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা স্টাইলে আর কোনো ‘ভোট কারচুপির নির্বাচন’ হতে দেবেন না। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ডাকসু-জাকসুতে অনেক কিছু মেনে নিলেও বাকি ক্যাম্পাসগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা কোনো ছাড় দেবেন না।

সাত বছর পর গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত ডাকসু এবং ১৮টি হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভরাডুবি ঘটে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের। ভিপি (সহসভাপতি), জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক)সহ ডাকসুতে ২৮টি পদের একটিতেও জয় পায়নি ছাত্রদল। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল সংসদের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভিপি, জিএস ও এজিএসের ৫৪টি পদের মধ্যে শুধু জগন্নাথ হলের ভিপি পদে বিজয়ী হন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।

এই ফল বিপর্যয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জামায়াতি প্রশাসন’, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকাসহ মোটাদাগে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। বিএনপির সহযোগী এই সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আলোচনা আছে, গণঅভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে ক্যাম্পাসে সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না। আবাসিক হলগুলোয় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেননি তারা। এর ফলে হলগুলোয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্য গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে, হল কমিটি ঘোষণার পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা হয়। আবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদল সম্পর্কে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েছে একটি পক্ষ। ছাত্রদল ডাকসুতে জিতলে বা ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মতোই আবাসিক হলগুলোয় গণরুম-গেস্টরুম ‘সংস্কৃতি’ ফিরে আসবে, জোর করে শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিয়ে যাওয়া হবে—এমন অপপ্রচারও ছিল।

অবশ্য পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তুলে ডাকসু নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ফল আসার মধ্যেই নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। আবিদুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত কারচুপির এই ফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পিত প্রহসন আমি প্রত্যাখ্যান করছি।

অন্যদিকে, ৩৩ বছর পর গত বৃহস্পতিবার জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনে ভোটগ্রহণে অসংগতিসহ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করে ছাত্রদল। নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন (বৈশাখী)।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে চাকসু নির্বাচন। এর আগে চাকসুর সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। আর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই আসন্ন রাকসু ও চাকসু নির্বাচনে জয় পেতে কাজ করছে সংগঠনটি। ছাত্রদলের অভিমত, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জামায়াতি প্রশাসন’। সে কারণে এই দুটি ছাত্র সংসদের নির্বাচনেও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে তাদের। তাই নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, আঙুলের অমোচনীয় কালি এবং ম্যানুয়ালি গণনার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনের নেতারা বলছেন, আঙুলে যদি হালকা কালি ব্যবহার করা হয়, তাহলে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে। আর ডিভাইসের মাধ্যমে গণনা করা হলে কারচুপির শঙ্কা থাকে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা আমান উল্লাহ আমান কালবেলাকে বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ছাত্রদল ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদল নির্বাচনমুখী সংগঠন, আমরা নির্বাচনটা করতে চাই। তবে নির্বাচনটা যাতে সব অংশীজনের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে হয়, ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠন যাতে অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ডাকসু-জাকসুতে যে একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, সেটা যাতে অন্য ক্যাম্পাসগুলোতে না হয়, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়া সত্ত্বেও শুধু দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ডাকসু-জাকসুতে আমরা অনেক কিছু মেনে নিয়েছি। সামনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া ছাত্রদলের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না। আমরা ছাত্রদলসহ অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলো ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘শেখ হাসিনা স্টাইলে’ আর কোনো ভোট কারচুপির নির্বাচন হতে দেব না।

যদিও আসন্ন চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নেবে কি না, তা ভেবে দেখার বিষয় বলে গত বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নিরপেক্ষতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল নোমান লেখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের অধীনে কতটুকু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ