ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, এএসপিসহ কয়েকজন আহত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, এএসপিসহ কয়েকজন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬ ৭:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬ ৭:১৫ অপরাহ্ণ

 

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রেলগেট, থানার সামনে ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি, পোস্ট অফিস মোড়ে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (ঈশ্বরদী সার্কেল) বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

সংঘর্ষের পর শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা মোস্তফা নুরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী ও রফিকুল ইসলাম রকিকে চিকিৎসার জন্য পাবনায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ভোরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল রউফ প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন। এ ঘটনার জেরে ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার অন্তত চারটি বাড়িতে ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

পরদিন রবিবার রাতে পৌর শহরের রহিমপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের ব্যবসায়ী অফিস দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

একই রাতে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামলসহ চারজনের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এ হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয়পক্ষ একে-অপরকে দোষারোপ করে আসছিল।

এসব উদ্ভুদ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক নেতা-কর্মীরা পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

পোস্ট অফিস মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে হাবিবুর রহমানের নেতা-কর্মীদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী নেতা-কর্মীদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে হাবিবের অনুসারীরা জাকারিয়া পিন্টু, মেহেদী, জুয়েল ও সোনামনি এবং তাদের বাহিনীর সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে উপজেলা, পৌর বিএনপির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে থানার সামনে এলে পুলিশ বাধা দেয়। একই সময় থানার খুব কাছে রেলগেটে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গোলাগুলি শুরু হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্ব পালনকালে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, একজন কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। শহরে সেনাবাহিনীসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ