উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইমাম হাসান তাইমের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশের ছোড়া গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তার বাবা উপ পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া।

ময়নাল হোসেন তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, তিনি এসআই শাহাদাতকে প্রশ্ন করেন—পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কেন উল্লেখ করা হয়নি। জবাবে শাহাদাত জানান, “এটা উপরের নির্দেশ, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না।” তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার আঘাতে ও গুলিতে আপনার ছেলে মারা গেছে”—এভাবেই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং তাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ময়নাল হোসেন। বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কল্যাণ ও ফোর্স বিভাগে এসআই হিসেবে কর্মরত তিনি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় খুব কাছ থেকে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইমাম হাসান তাইম।

জবানবন্দিতে ময়নাল হোসেন বলেন, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২১ জুলাই সকালে তিনি পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অবস্থান করেন। সেখানে তাইমের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়। ওই সময় শাহবাগ থানার এসআই শাহাদাত সেখানে উপস্থিত হয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি জানান, পুলিশের গুলিতে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং দ্রুত সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থার কথা বলি। কিন্তু একই পেশার সহকর্মী হিসেবে কোনো সান্ত্বনা না দিয়ে আরেকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। এরপর অন্যান্য সহকর্মী ও নিজের ব্যক্তিগত কাজ করতে থাকেন এসআই শাহাদাত।

ময়নাল হোসেন বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে। চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ছেলের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। মরদেহে প্রায় পচন ধরে গেছে। এসব চিন্তা করে সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই। সুরতহাল শেষে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পার হলেও ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ নিয়ে এসআই শাহাদাতের কাছে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি। বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। সাড়ে ৪টার পর সম্পন্ন হলে আমরা তাইমের মরদেহটি বুঝে পাই।

এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে গ্রেপ্তার। বুধবার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই শাহাদাত আলী।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন এবং এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ