একান্ন বৎসরের ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশ আজ মুক্তি চায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সায়েক এম রহমান
এক . আসছে ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ঢাকায় বিএনপির মহা-সমাবেশ। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য ও বিভিন্ন সমাবেশের মধ্য দিয়ে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলাদেশের রাজনীতি।
দেশ আজ উত্তাল ও উত্তপ্ত।। রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বান্দর বন থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ এক কঠিন সময়ে উপস্থিত। দেশটির আকাশ আজ অন্ধকার গাঢ় কালো মেঘে আছন্ন হয়ে আছে।
রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টা -পাল্টি বক্তব্য হচ্ছে, ” খেলা হবে, খেলা হবে! আমরা জানি এ বক্তব্যটির উৎপত্তি স্থান নারায়ণগঞ্জ অতঃপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁহার চিরাচরিত ভঙ্গিমায় বলছেন,” খেলা হবে, খেলা হবে, ডিসেম্বরে খেলা হবে বলেই বাজারজাত করেছেন”। এখন খেলা হবে পাল্টা -পাল্টি চলছে। এ মুহুুর্তে খেলা শব্দটি নিয়েে হাটে – মাঠে -ঘাটে এমনকি জাতীয় সংসদে ও উচ্চারিত হচ্ছে এবংগরম চা-য়ের কাপে মানুষ গল্প করছে, হাস্যরস করছে, আবার সিরিয়াসলিও দেখছে। পাশাপাশি যোগ হয়েছে ঢাকার মহাসমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না নয়া পল্টনে? এখানেও চলছে রশি টানাটানি। কোথায় যে কি রহশ্য বুঝা বড়ই কঠিন।
এদিকে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, লোডশেডিং, বিদ্যুৎ নাই,পেট্রোল নাই, গ্যাস নাই, ডলার নাই,রিজার্ভ নাই ! তারপর ও খেলা ! এ আবার কোন খেলা? কি ধরনের খেলা?
তবে এ খেলা কোথায় শেষ হবে? মানুষ আন্দাজ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে, মানুষ মুক্তির দিকে পা বাড়াচ্ছে।
দুই .ইতিহাস বলে, এই জাতি দুইশত বৎসর আবদ্ধ ছিল বৃটিশ জিঞ্জিরে, তেইশ বৎসর পাকিস্তানের শাসন ও শোষণ, অতঃপর লক্ষ কোটি শহিদের রক্তের বিনিময়ে এই পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় এক ” রক্তাক্ত লাল সূর্য “। যার নাম “বাংলাদেশ “।
সেই বাংলাদেশ টি আজ বহুু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৫১ বৎসরে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষত- বিক্ষত অবস্থায়।
সংক্ষেপে যদি বলি ৫১ বৎসরে বাংলাদেশ দেখেছে, ৭৫ এর ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ কতৃক বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর, ৭৫ এর ৭ জুন আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠন অর্থাৎ বাকশালী শাসন আমল, অনাকাঙ্ক্ষিত ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট, ৭৫ এর ২৬ সেপ্টেম্বর মানবতা বিরোধী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি, ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার বিপ্লব। ৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, এবং ৮১সালের ৩০ মে দুষ্কৃতকারীর হাতে শাহাদাত বরণ।
অতঃপর স্বৈরাচার এরশাদের ৯ বছরের সেনা শাসন। ৯০ এ আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন। অতঃপর ৯১ এর জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে প্রথম বার বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান মন্ত্রীর আসন গ্রহণ এবং গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধার । এরপর ৯৬ এর ১৫ ফেব্রোয়ারি নির্বাচন যদিও আলোচিত সমালোচিত এবং সংবিধান রক্ষার্থে তারপরও দ্বিতীয় বার বেগম খালেদা জিয়া প্রধান মন্ত্রী হন। পরবর্তীতে এই নির্বাচনের পর পরই ৯৬ এ সাধারণ নির্বাচনে তত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে ২১ বৎসর পর শেখ হাসিনা প্রথম বারের মতন প্রধান মন্ত্রীর আসনে বসেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতন প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া।
অতঃপর বাংলাদেশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলতে শুরু মঈনউদ্দিন- ফখরুদ্দিন এক এগারোর (১/১১) এর সেনা শাসনের মাধ্যমে।
জাতি অবশ্য অবগত ২০০৮সালে মঈন-ফখরুদ্দিনের সব কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়ে একটি নকশা আঁকা নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পালা শুরু।
তারপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যা বিশ্বজুড়ে তামাশার নির্বাচন নামে পরিচিত। যেখানে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসন ছিল প্রার্থীশূন্য বাকি ১৪৭টি আসনে ভোট পড়েছিল শতকরা পাঁচ শতাংশের নীচে।
অতঃপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। যে নির্বাচনটি ভোট ডাকাতির নির্বাচন বা মিড নাইট নির্বাচন হিসাবে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের কালো পাতায় এক অধ্যায় হয়ে আছে।
এই তো গেল এক নজরে একান্ন বৎসরের বাংলাদেশের ইতিহাস। এখানে পরিস্কার ভাবে প্রতিয়মান স্বাধীনতার ৫১ বৎসর পরও বাংলাদেশ আজ ক্ষত-বিক্ষত। ৫১ বৎসর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এখানে পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠে এ দেশের গণতন্ত্র কে বার বার ধর্ষন করা হয়েছে। ধর্ষিত গণতন্ত্র কে বার বার-ই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পুনঃউদ্ধার করেছে। আজ এ দেশের গণতন্ত্র আবারও ধর্ষিত। নেই মানুষের ভোটের অধিকার, নেই গণতন্ত্র, নেই স্বাধীনতা, নেই মানবিকতা।
তিন. জাতীয় নির্বাচন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। বাকি আছে মাত্র ১২/১৩ মাস। সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে জাতীয় নির্বাচনের দিকে। কিন্তু তাকালে কি হবে? বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্হা তো সেই দিনই শেষ হয়ে গেছে, যেই দিন দেশের অধিকাংশ নীতি নির্ধারক ও রাজনীতিবিদ তত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে থাকায় ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের একটি রায়ের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় তত্ব্বধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্হা।
প্রকৃত পক্ষে সেই দিন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার হুুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
আজ ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় ৫১ বৎসরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।
আজ ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশের জন্য বিএনপির নেতৃত্বে অনেকগুলি রাজনৈতিক দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের জন্য ঐক্য বদ্ধ হয়ে যুগপৎ আন্দোলনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না।
আজ দেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার ৫১ বৎসর পর আবারো মুক্তি চায়, ভোটের অধিকার ফেরত চায়। আজকের যুবসমাজ বলছে,” আজ থেকে ৫০ বৎসর আগে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যুদ্ধ করছিলেন ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবিকতার জন্য। আজ আফসোসের সাথে তারা বলছে,” কোথায় আমাদের ভোটের অধিকার? কোথায় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানবিকতা? আজ পরিলক্ষিত হচ্ছে দেশের যুবসম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য সরকারি দলের হাজারো বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে দলে দলে বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিচ্ছে। দিন দিন গণ-সমাবেশগুলো আয়তনে একটার পর আরেকটা বড় হচ্ছে। একেকটা গণ-সমাবেশ মহা -সমাবেশের রুপ নিচ্ছে। বিশাল থেকে বিশালতম হচ্ছে।।
১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহা- সমাবেশ। ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে দেশ এখন উত্তাল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন ডিসেম্বরের ১০ তারিখকে ঘিরে এখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানিং পয়েন্ট রয়েছে। বিএনপি বলছে তাদের দাবি না মানলে, এই দিন থেকে সব বিরোধী দল মিলে কঠিন যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি দিবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি না মানা পর্যন্ত বা সরকারকে পদত্যাগ না করানো পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। আবারো তাদের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এদেশের মানুষের মুক্তি, ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশের মুক্তি।
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি
জনতার আওয়াজ/আ আ