এখন অশ্রু ঝরানোর সময় নয়,খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রক্ত ঝরানোর সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ৭:১৯ অপরাহ্ণ

আব্দুল আজিজ
আপোষহীন দেশনেত্রী মাদার অফ ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,
অবৈধভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে গণতন্ত্রের মা নিরঅপরাধ বেগম খালেদা জিয়াকে ।
গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি ‘খালেদা জিয়ার ওপর।জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে ‘অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস’ দলের এমপি গত ২১ সেপ্টেম্বর স্পিকারের উদ্দেশ্যে প্রথম পয়েন্টে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ম্যাগনিটস্কি স্টাইল স্যাংশন আরোপের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এমপি আবিগালি বয়েড ।
প্রতিবারই নির্বাচন আসে আন্দোলনের অংশ হিসাবে কিন্তু মায়ের মুক্তির জন্য নয়, গণতন্ত্রের মুক্তির বার্তা নিয়ে নয়। আর কত নির্বাচনে গেলে মায়ের মুক্তি আন্দোলনে নামবো।মায়ের মুক্তি মিলবে।
কারাবন্দি মায়ের একমাত্র আদর্শিক অনুগত পরিচায়িকা ফাতেমা চোখ মুছে মায়ের পাশে রাত জেগে। ফাতেমা মায়ের জন্য চোখের জল ফেলে নিরবে। আর ভাবে মা তোমাকে একা রেখে আমি কোথাও যাবো না| প্রয়োজনে আমি তোমার সাথে লাশ হয়ে ফিরবো জনতার সামনে।
ফাতেমা তো রাজনীতি বুঝেনা, সে তোমার এক নগন্য অনুগত পরিচায়িকা মাত্র।তখন হয়তো ফাতেমার কথা কেউ মনে রাখবে না যেমনি করে সবাই আজ মাকে জেলে রেখে ভুলে আছে|
সন্মানিত পাঠক
নেলসন ম্যান্ডেলা যদি হয় কালো মানুষের মুক্তির প্রতীক। ইয়াসির আরাফাত যদি হয় ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনের প্রতিরোধ এর প্রতীক । তাহলে খালেদা জিয়া আজ আফ্রো এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা সহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের গণতন্ত্র ও মানব অধিকার রক্ষার সংগ্রামের এক প্রতীক।
আপনারাসহ পৃথিবীর সকল গনতান্ত্রীক মানুষ জানেন ৭৮ বছর বয়ষ্ক এমন একজন বর্ষীয়ান আপোষহীন নেত্রী বিশ্বে দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী আর বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।এবং তাঁর নেতৃত্বের ৪২ বছর অর্থাৎ তিন যোগের বেশি নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন | যিনি বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছেন।
মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ফুসফুস থেকে পানি বের করা হয়েছে। শরীরে ক্যাথেটার লাগানো হয়েছে। আগে যেখানে দু-তিন দিন পরপর পানি বের করা লাগত, এখন প্রতিদিনই পানি বের করতে হচ্ছে। কেবিনে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি নেই। লিভার সিরোসিসের সঙ্গে কিডনির জটিলতাও বাড়ছে। লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প নেই। এজন্য উন্নত চিকিৎসায় দ্রুত তাঁকে বিদেশ পাঠানো দরকার। এখন খালেদা জিয়ার জন্য অশ্রু ঝরানোর সময় নয় এখন সময় রক্ত ঝরানোর ।
বেগম খালেদা জিয়ার মৌলিক অধিকার চিকিৎসা পাওয়া। কিন্তু তিনি চিকিৎসা পান না। তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। এ ধরনের মামলায় দৃষ্টান্ত হাজার হাজার আছে। কিন্তু তিনি জামিন পান না। এটার জবাব আজ হোক কাল হোক তাদেরকে দিতেই হবে।
একটা কথা আবারও বলছি, এই অবস্থায় দেশনেত্রীর যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকবেনা ।
এছাড়া সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো বেগম জিয়ার শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী যখন হাসি রসিকতা ও নিস্ঠুর তামাশা করেন তখন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে। একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং ঐ ধরনের বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করার জন্য ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহি:প্রকাশ।
আর কে বলে আপনার বয়স হয়েছে মা খালেদা জিয়া ?
কে বলে আপনি অসুস্থ ? আপনি এখনো যেই মানসিক শক্তির মানুষ হিসাবে বিশ্বকে দেখিয়েছেন গনতন্ত্র রক্ষাকারী একজন ৭৮ বছর বয়সি নারী হিসাবে নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দিচ্ছে না কেন? তিনি যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য যান সেখানে চিকিৎসায় ধরা পড়তে পারে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তার খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিল কি না। বিদেশে উন্নত ল্যাবে এটা ধরা পড়তে পারে। এই কারণেই বেগম জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
খালেদা জিয়াকে কেন বন্দি করে রাখা হয়েছে। কোনো অন্যায়ের জন্য নয়, কোনো অপরাধের জন্য নয়; অপরাধ একটিই– বেগম জিয়ার এত জনপ্রিয়তা কেন? এত অপপ্রচার চালানোর পরও দেশনেত্রীর জন্য মানুষ কাঁদে কেন? এই কারণেই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
মা চিন্তা কিসের ? মা আন্দোলন তো হচ্ছেই, নির্বাচন তো আন্দোলনের একটি অংশ। তাইনা ?
জাতি কি আজ জেগে ঘুমাচ্ছে ? আজ জানতে ইচ্ছে করে-আন্দোলন কি কোন ফ্যাসিবাদী সরকার করতে দেয় বা দিবে ?দিবা স্বপ্নে বিভোর আমরা সবাই।কোথাও কি শুনেছেন ?নাকি সময়ের প্রেক্ষাপটে ন্যায্য অধিকার, ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করতে হয় ?কোনটা ?কোথাও কেউ নেই ?সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে ।কোথাও কি কোন হৈ চৈ আছে ?পরিবেশটা খুব ঠান্ডা তাই না ?
আমরা কি মা খালেদা জিয়ার লাশের জন্য অপেক্ষা করছি ?
আমি বিশ্বাস করি জাতীয়তাবাদী শক্তির এখন অশ্রু ঝরানোর সময় নয় খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রক্ত ঝরানোর সময় ।
লেখকঃ প্রধান সম্পাদক
জনতার আওয়াজ ডটকম
জনতার আওয়াজ/আ আ