এনসিপি-জামায়াত সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ মাহফুজের : জাহেদ উর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এনসিপি-জামায়াত সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ মাহফুজের : জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তিনি এই স্ট্যাটাসটি কার উদ্দেশ্যে দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন—তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি এনসিপিকে জামায়াতের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া বা জামায়াতের মতো না হওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এ নিয়ে ব্যাখা দিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, মাহফুজ আলম বর্তমানে ব্রিটেন সফর করছেন। সেখানে তার ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। যে গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছিল সেটিতে তিনি ছিলেন না। তার যাওয়ার ঘোষণা ছিল এবং সে অনুযায়ী আওয়ামী ঘরানার লোকজন ফেসবুকে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত হয় এবং হামলার চেষ্টা করে।
এই হামলার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন—সরকার এই ঘটনায় যথেষ্ট কঠোর হয়নি। এমনকি তিনি আরো মারাত্মক অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার ও উপদেষ্টারা তাকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা মাহফুজ আলমের ওপর এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর আগে সুইজারল্যান্ডে ড. আসিফ নজরুলের ওপরও এমন ঘটনা ঘটেছিল।

আমাদের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের ওপরও একই রকম চেষ্টার নজির রয়েছে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। আমরা বিতর্ক করব, ঝগড়া করব। তবু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেকোনো অপশক্তি বা হামলার ক্ষেত্রে আমাদের একত্রিত হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ দাবি করতে হবে।
তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনায় একদিকে যেমন আওয়ামী লীগ সেলিব্রেট করছে তেমনি জামায়াতপন্থী কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং ইনফ্লুয়েন্সাররাও এটিকে উদযাপন করছে।

মাহফুজ আলমকে “জুলাইয়ের গাদ্দার” বলা হচ্ছে। তার ওপর হামলার ঘটনাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা, ফান এবং আনন্দ প্রকাশ করা হচ্ছে। আমার ধারণা, এটিই হয়তো মাহফুজ আলমকে ওই স্ট্যাটাস দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি আরো বলেন, মাহফুজ জামায়াতের নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক অবস্থানকে ইঙ্গিত করে বলেছেন। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির এখনো মওদুদীবাদকে অনুসরণ করে রাজনীতি করে। এর বাইরেও বহু ‘প্রক্সি’ রয়েছে। এনসিপির কিছু নেতা ডাকসু নির্বাচনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন বাগছাসের ভরাডুবির পরেও জামায়াতের জয়কে সেলিব্রেট করেছেন। আমি নিজে কিছু টকশোতে এনসিপি নেতাদের দেখেছি—তাদের ব্যর্থতা নিয়ে আত্মসমালোচনা না করে বরং জামায়াত কিভাবে জিতল তা ব্যাখ্যা করতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই দলের মধ্যে এখনো মওদুদীবাদের প্রতি বিশ্বাসী কিছু মানুষ রয়েছেন। ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের সঙ্গে তাদের প্যানেলে লোকজন ছিল এবং সেই জয়কে তারা খোলাখুলি উদযাপন করেছেন। এটাই মাহফুজ আলম ইঙ্গিত করছেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা জামায়াতের আদর্শে বিশ্বাস করে তারা সরাসরি জামায়াতেই যাবে। এনসিপির মতো একটি দল যদি মধ্যপন্থী দল হিসেবে রাজনীতি করতে চায় তাহলে তাদের স্পষ্ট করে নিজের অবস্থান নিতে হবে। মওদুদীবাদের প্রক্সি হতে গেলে জনগণের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে। মাহফুজ আলমের এই পরামর্শ এনসিপিকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে—এটা ধরে নেওয়ার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আমি মনে করি, মাহফুজ আলম সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাহফুজ এর আগে ৭১-সংক্রান্ত ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে জামায়াত-শিবিরের বিপক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু এবার তাকে “জুলাইয়ের গাদ্দার” বলা হচ্ছে কারণ, কেউ কেউ মনে করেছিল মাহফুজ এনসিপির ভেতরের জামায়াতঘেঁষা অংশের মতেই থাকবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তার এই নিরপেক্ষ অবস্থানই অনেকের ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতেও মাহফুজ আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ। যদিও অতীতে তার কিছু অবস্থানের সমালোচনা করেছি তবে কিছু বিষয়ে তিনি যথাযথ ও সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। মন্ত্রী হিসেবে তার দক্ষতা বা কাজ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু তার বিরুদ্ধে সজীব ভূঁইয়ার মতো বড় কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আমরা পাইনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ