এবারের ঈদ উৎসবে যোগ হবে নির্বাচনের বাড়তি আমেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৩ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৩ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
ঈদের পরপরই হবে দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনে ভোট। এর কয়েক মাস পর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সিটি করপোরেশন তো বটেই, সারা দেশেই নির্বাচনের হাওয়া বইছে। ঈদ উপলক্ষে নিজ নিজ গ্রামে ছুটছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। নানাভাবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষ তথা ভোটারের কাছে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা দুটি লক্ষ্য নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামে। কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি গণসংযোগও করবেন। ফলে এবারের ঈদ উৎসবে যোগ হবে নির্বাচনের বাড়তি আমেজ।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রচার চালাতে এবার নিজ এলাকায় ঈদ করতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের বেশিরভাগ নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও এই ঈদে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিজ নিজ জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন দলের এমপি প্রার্থীরা। ঈদ উৎসব কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও ঈদকে কাজে লাগাতে গ্রামে যাচ্ছেন। নিজেদের আন্দোলন জমাতে সারা দেশে জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করবেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জনমত গঠনে কাজে লাগাতে নির্দেশ দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এবারের রোজায় লাগাতার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্বঘোষিত ১০ দফা দাবির পক্ষে প্রচার চালাবেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন পাঁচ সিটিতে ভোটের জন্য তপশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটিতে ভোট হবে আগামী ২৫ মে। খুলনা ও বরিশাল সিটিতে ১২ জুন এবং রাজশাহী ও সিলেটে ভোট হবে ২১ জুন। অন্যদিকে, আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোজার পুরো মাসে প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইফতার ও গণসংযোগ করেছেন। রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। মন্ত্রী-এমপিরা যেমন আছেন, তেমনি ঈদ ঘিরে সরব হয়েছে যারা এতদিন রাজনীতির মাঠে ছিলেন না তারাও। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে অনেকে গরিব ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেছেন ইফতার সামগ্রী। আর এখন বিতরণ করছেন ঈদের উপহার সামগ্রী।
নির্বাচনকেন্দ্রিক এসব কর্মকাণ্ডে গতি আনতে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথ সভা চলাকালে ভিডিওকলে নেতাকর্মীদের এসব নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তাদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের উপকারভোগীদের খোঁজখবর নিতেও নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন তিনি। এ ছাড়া বিরোধীদের সম্ভাব্য নাশকতার ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকা এবং সরকারের উন্নয়নের চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরা, বিএনপির অপশাসন ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা এবং তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সময়ের তুলনা করে মানুষকে বোঝানো, স্থানীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের গ্রুপিং না করা এবং যাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, কৃষকদের ধান কাটার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উৎপাদন বাড়াতে অনাবাদি জমি না রাখতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন দলীয় প্রধান।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে এসেছি। এ উপলক্ষে এখন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এলাকার জনসাধারণ ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে সময় কেটে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঈদুল ফিতরের পর সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করবে ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিএনপি। এ লক্ষ্যে রমজানজুড়ে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও আন্দোলনের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এবার দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সারা দেশে সহস্রাধিক ইফতার মাহফিল করা হয়েছে। এসব ইফতার মাহফিলে দলের সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভাগ ও জেলার ইফতারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছেন। এবার আন্দোলনের বার্তা নিয়ে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করার নির্দেশনা দিয়েছে দলের হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ঈদের সময় নেতাকর্মীরা নিজ এলাকায় যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটাধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সংকট উত্তরণে এই সরকারকে বিদায়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই নেতাকর্মীরা আন্দোলনের বার্তা নিয়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।
বিএনপি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যাচ্ছে না দলটি। তার পরও ঈদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় দলটির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে যারা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান তারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উৎসবকে কাজে লাগাতে চান। তাদের কেউ কেউ বলছেন, দল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সরকারের শেষ সময়ে নানা মেরুকরণ চলতে থাকে। নির্বাচনে যাওয়ার পথও খুলে যেতে পারে। তাই নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ করাটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যেসব নেতা এলাকায় ঈদ করেননি, তারাও এবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ ছাড়া দলের অনেক তরুণ নেতা রমজানজুড়ে এলাকায় থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একাধিক ইফতার মাহফিল করেছেন। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে গরিব মানুষের মাঝে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন। অনেকে আবার এলাকায় ঈদ করে ঢাকায় ফিরবেন।
স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দলীয় কর্মসূচি হিসেবে চলা ইফতার মাহফিলগুলোয় শেষ মুহূর্তে ঈদের আমেজ চলে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ছে ঈদের শুভেচ্ছাসংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। অনেক তরুণ নেতা এবার ঈদ ঘিরে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। অনেকে নিজ এলাকায় গিয়ে জাকাতের কাপড়, টাকাসহ ঈদ উপহার তুলে দিচ্ছেন দুস্থদের হাতে। কেউ কেউ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঈদ উপহার পাঠিয়ে দিয়েছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঈদের দিন গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় থাকবেন। তার সঙ্গে ঈদ করতে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। এ ছাড়া বরাবরের মতো এবারও ঈদের দিন সন্ধ্যায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কয়েকজন ঢাকায় ঈদ করে নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদের বেশিরভাগ ঢাকায় ঈদ করে তারপর নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের পর তিনি নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও যাবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঈদের দিন যাবেন নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার দাউকান্দিতে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকায় ঈদ করবেন। গয়েশ্বর রায় ঈদের দিন যাবেন নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জে।
জনতার আওয়াজ/আ আ