এলপিজি সংকটে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশে চলমান এলপিজি অটোগ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন। সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জি. মোঃ সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের কার্যকর বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারের উৎসাহ ও নীতিগত সহায়তায় সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে প্রায় দেড় লক্ষ যানবাহন এলপিজিতে কনভার্ট করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে । এর ফলে স্টেশন মালিকরা যেমন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের এ সভাপতি আরো বলেন, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই সামান্য পরিমাণ এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অটোগ্যাসের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২. বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে এলপিজি আমদানিসংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা দ্রুত সমাধান করে অটোগ্যাস খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৩. ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে সরকারিভাবে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জি. মোঃ সিরাজুল মাওলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মোঃ ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মোঃ মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মোঃ মশিউর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ