এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : ফরহাদ মজহার - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : ফরহাদ মজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪ ৫:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৪ ৫:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
প্রখ্যাত সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, আগামী দিনে দুইটা নির্বাচন লাগবে। একটা হলো গণপরিষদ নির্বাচন। যেখানে আমরা নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে পারি। আরেকটা হলো সরকার নির্বাচন। রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন আগে। তারপরে আসবে সরকার নির্বাচন। এই রোডম্যাপ জনগণের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে দেওয়া হলো। এই রোডম্যাপ যদি না মানা হয় তাহলে ভয়ানক বিপদে পড়বো। তবে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে প্রফেসর কে আলী ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত “নতুন বাংলাদেশ : বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, যখনই আমরা রাষ্ট্র গঠনের কথা চিন্তা করি তখন আমরা রাজনৈতিক দলের কথাও চিন্তা করি। রাজনৈতিক দল আমাদের দরকার। রাজনৈতিক দল ছাড়া আমাদের চলবে না। কিন্তু, রাজনৈতিক দলগুলো চায়, সে ক্ষমতায় যাবে ১৫ বছর ধরে লুটপাট করবে। এটা তো রাজনৈতিক দলের কাজ নয়। আগামী দিনে আমরা বাংলাদেশকে সুন্দর করে গঠন করবো। এমন একটি গঠনমূলক প্রস্তাবনা রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া দরকার। কিন্তু তারা কোনো প্রস্তাবনা দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে এতবড় একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে। আমরা এত রক্ত দিলাম। কিন্তু আমরা দিনশেষে শেখ হাসিনারই সংবিধান পেলাম। এমনটা কি আমরা চেয়েছি! কি করে এই সংবিধান এখনো থাকে!

তিনি বলেন, যাদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা মূলত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা। আর এই প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনা নিয়োগ করে গিয়েছে। তাকে একজন ফ্যাসিস্ট নিয়োগ করেছে। উপদেষ্টারা শপথ গ্রহণের সময় বলেছে, আমরা সংবিধান সংবিধান সংরক্ষণ করবো। কিন্তু, এই সংবিধান তো শেখ হাসিনার সংবিধান।

ফরহাদ মজহার বলেন, আমাদের যে ধরনের রাষ্ট্র গঠন করা প্রয়োজন আমরা ৭২ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত করতে পারিনি। রাষ্ট্র গ্রহণ করা হয় জনগনের অংশগ্রহনের ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের ডানহাত তাদেরকে দিয়ে আপনি কমিশন বানিয়েছেন। আপনি বলছেন কমিশন গঠন করেছেন। কিন্তু এর ভেতর কারা কারা রয়েছে, সেটা আমরা জানি না। যে জনগণ এত আত্মত্যাগ দিয়েছে, তাদের কোনো খবর নাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শক্তিশালী গণপ্রতিরক্ষা দরকার। আমার পাশে শক্তিশালী ভারত এবং মায়ানমার রয়েছে। আমি যদি নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে চাই তাহলে জনগণকে জাগিয়ে তুলে প্রতিরক্ষার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এসময় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর আহমেদ ফেরদৌস বলেন, ড. ইউনুস যে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাথে শপথ গ্রহণ করেছে এ কারণে আমি একটু ব্যথিত। ড. ইউনুসের উচিত ছিল রাজু ভাস্কর্য অথবা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে উপদেষ্টারা সহ ছাত্র জনতার সামনে নিজেকে সরকার ডিগলার করতো তাহলে খুব ভালো হতো।

তিনি বলেন, আজকে বাকস্বাধীনতা আমরা আগের চেয়ে কিছুটা পেয়েছি। কিন্তু, পুরোপুরিভাবে পাইনি। আবার যদি আরেক ফ্যাসিস্ট আসে তাহলে আবার সেই স্বৈরাচারী শুরু হবে। দেশে আর স্বৈরাচারী সিস্টেম রাখা যাবে না।

উপ-সচিব ড. আবুল হোসেন বলেন, আমাদের আইন আছে, বিচার বিভাগসহ সবকিছু আছে। কিন্তু, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে মানুষ আবার খারাপ কাজ করে। সেজন্য আমরা মনে হয় মানুষের ভেতরে সমস্যা রয়েছে। সেজন্য মানুষকে ভালো করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষকে মোটিভেট করতে হবে। সমাজ পরিবর্তন করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকার বর্তমানে ছয়টা কমিশন গঠন করেছেন। সেজন্য সরকারকে আমাদের সাহায্য করা প্রয়োজন। একটি ভালো রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে সরকারকে সাহায্য করা উচিত।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের একটা সোনালি সময় এসেছে। আমরা আমাদের একটা কল্যাণ রাষ্ট্র তৈরী করতে হবে। আমাদের সংবিধানে অনেক কাটাছেঁড়া করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের সামনে যে সময় রয়েছে। আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন। ক্ষমতার দ্বিকেন্দ্রীকরণে সংস্কার করতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ