ওয়ান-ইলেভেনের সময় আপনারা কি চোর হয়ে সেদিন জেলে গিয়েছিলেন?
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৪, ২০২৪ ২:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৪, ২০২৪ ২:৪৬ অপরাহ্ণ

‘জেলে কোন রাজবন্দী নেই’ সরকারের এমন বক্তব্যে প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
‘জেলে কোন রাজবন্দী নেই’ সরকার পক্ষের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনারা কি চোর হয়ে সেদিন জেলে গিয়েছিলেন? না, রাজবন্দী হয়ে জেলে গিয়েছিলেন, আমি জানতে চাই।
শনিবার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব এর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমেদ এর বক্তব্য তুল ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, কি বিচিত্র বাংলাদেশ। “একশ টাকার জন্য চোরের হাত বেঁধে রাখেন, এক হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করেন, তাদেরকে স্যালুট দেন”। এই তো বাংলাদেশ।
আজকে বাংলাদেশে কি করুন অবস্থা। এইটা বিশ্বের সকলই জানে, বাংলাদেশ কি দূর অবস্থার ভিতর আছে। আর তার চেয়ে বেশি জানে বিএনপি নেতা কর্মীরা, তারা কি অবস্থায় আছে।
প্রতিদিন আমার বাসায় ৫০ থেকে ১০০ জন অভিভাবক, স্ত্রী-সন্তান আমার কাছে আসে এমনটা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, কেউ বলে আমার বাবা জেলে, কেউ বলে আমার স্বামী জেলে, কেউ বলে আমার ছেলে জেলে, কেউ বলে আমার ভাই জেলে। কত জনের জন্য কথা বলব, আর কত জনের জন্য সান্ত্বনা দিবো।
এই দেশ স্বাধীন করেছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। তার দল বিএনপি’র যে নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন এখন। আল্লাহই জানেন, কয়দিন পরে তার কি হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
“আমরা কতবার বলেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে অথবা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠান। উনার অবস্থা বেশি ভালো না। সরকার বলছে আইন নাই। আইন থাকবে না কেন, আইন কি মানুষের জন্য, না আইনের জন্য মানুষ?” এ সময় রাশেদ খান মেনন ও আ স ম আব্দুর রবের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা তুলে ধরেন মির্জা আব্বাস। সেই সাথে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। আ স ম আব্দুর রবকে বন্দি অবস্থায়, এবং রাশাদ খান মেননকে পাঠিয়েছিলেন আজকের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
অথচ তারা (সরকার) বলছেন “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো যাবে না”। অর্থাৎ তাকে হত্যা করতে হবে। এমন ভাবেই করতে হবে, যাতে কেউ কিছু বলতে না পারে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কাদের সাহেব বললেন, “জেলে কোন রাজবন্দী নেই”। কি সুন্দর কথা বললেন কাদের সাহেব, আমার খুব হাসি পায়। কাদের সাহেব আপনি যখন ওয়ান ইলেভেনে জেলে ছিলেন। আপনি কি চোর হয়ে সেদিন জেলে গিয়েছিলেন? না, রাজবন্দী হয়ে জেলে গিয়েছিলেন, আমি জানতে চাই। এক-এগারো সময় আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী উনিও জেলে গিয়েছিলেন। উনি কি হয়ে জেলে গিয়েছিলেন? আমি জানতে চাই।
মির্জা আব্বাস বলেন, আপনাদের (সরকার) মনে থাকে না, একটা মামলা দিবেন, জেলে পাঠাবেন। আর বলবেন, রাজনৈতিক কোন রাজবন্দী জেলে নাই। এরা হলো মামলার আসামী। আরে কোন মালমার আসামী? রাজনৈতিক মামলার আসামী। যারা আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলে।
গ্রেফতার করে পৃথিবীর কোন আন্দোলন, কোন স্বৈরশাসক থামাতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না এমন মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমার জানা নেই। একদিন না একদিন এই স্বৈরশাসকের পতন ঘটবেই জনরোষের মুখে। এটাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।
যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতেও পারবেনা সে নির্বাচন বাংলাদেশের প্রয়োজন নেই। এখন একমাত্র একটি কাজ করতে পারেন রাজতন্ত্র কায়েম করতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনের কথা আপনাদের (সরকার) মুখ দিয়ে মানায় না।
সরকারকে উৎখাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা তো সরকারই দেখি না। এটিতো নির্বাচন করে সরকার হয়নি। সুতরাং এ সরকারকে উৎখাত করার বা রাখার দায়-দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। জনগণ যখন মনে করবে, তখন এই সরকারকে লাথি দিয়ে ফেলে দিবে। তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডাঃ জাহিদুল কবির, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি শহীদ তালুকদার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম সান্ত, ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, তারেক উজ জামান তারেক, জয়দেব জয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ বকুল, জাকির হোসেন, মোঃ ইব্রাহীম, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, ঢাকা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সজীব রায়হান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ পরান, ছাত্রদল নেতা নুরুল ইসলাম মিশু, আতিক-সহ নেতৃবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ