ওয়ান ইলেভেন নিয়ে মিছে ভয় পাবার কিছু নেই: উপদেষ্টা মাহফুজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৩৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ওয়ান ইলেভেন নিয়ে মিছে ভয় পাবার কিছু নেই: উপদেষ্টা মাহফুজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ৩ আগস্ট বলেছিলাম ১/১১ চাই না। ১/১১ নিয়ে মিছে ভয় পাবার কিছু নেই। বরং আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো- আসুন বাংলাদেশ পন্থার ভিতর দিয়ে আমরা যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি আছি, ঐক্যবদ্ধ হই। সরকারকে সহযোগিতা করি- সংস্কারগুলো করার জন্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সংস্কারকৃত হয়, তাহলে উপকৃত হবে বাংলাদেশের জনগণ, উপকৃত হবে বৈষম্যের শিকার জনগণ। আপনাদের সদিচ্ছা থাকলে আপনার এই সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। সংস্কার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে এগোব।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের যারা এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বিরোধী, জনগণ বিরোধী, আলেম বিরোধী, নারী বিরোধী- তাদের কাউকে আর এভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন আপনারা (জনগণ)। আপনারা রাস্তায় নেমে ডাক দিয়েছেন, ড মুহাম্মদ ইউনূসকে আমরা এনেছি, উনি দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা ছাত্ররা তাঁর সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা কোন রকম পক্ষপাত করতে চাই না রাজনৈতিক। বরং রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো করবেন। কারো সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু দিল্লির তাবেদারি করার কোন উপদেষ্টা হলে বিরোধযোগ্য হবে।

বলেন, বাংলাদেশের সেনা শাসন আসার কোন প্রেক্ষিত নেই। আমরা কারো মদদে, কোন রাষ্ট্রের মদদে হাসিনাকে উৎখাত করিনি। আমরা জনগণ ছাত্র-জনতার রক্ত দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। আমাদের কারো তাবেদারি করার আর দরকার নেই। হাসিনার তাবেদারি করার যে প্রক্রিয়া, সেটাকে নৎসাত করে দিয়ে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা এনেছি। আমরা কারো কাছে আর মাথা নত করবো না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅদ্ভুত্থানের ভেতর দিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়ে গেছে। আমরা এখনো বুঝতে পারিনি, আওয়ামী ফ্যাসিজম শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে তারা নিশেষিত হয়ে যায়নি বরং দিল্লির কোলে আশ্রয় নিয়ে তারা ফোঁস ফোঁস করছে। তারা আবারও ছোবল মারার চেষ্টা করছে।

বলেন, আপনাদেরকে বলে দিতে চাই- এটা আমাদের প্রজম্মের লড়াই, আমাদের ছাত্র-জনতার লড়াই, এটা বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং সার্বভৌম হয়ে উঠার লড়াই। কোনভাবে যদি আবার আওয়ামী লীগ দিল্লির কোলে আশ্রয় নিয়ে আমাদের দিকে আবারও চোখ রাঙ্গাতে চায়- আমরা কি বসে থাকবো? আমরা কিন্তু বসে থাকবো না।

তিনি বলেন, আমাদের শহীদদের পথ অনুসরণ করে আমরা শাহাদাতের রাস্তা বেছে নেব। আমরা আবার লড়াই করব। আমরা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করে সন্তুষ্ট নয় বরং আওয়ামী লীগ ফ্যাসিজমের যত অবশিষ্ট আছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনের মধ্যে, শিক্ষাঙ্গনে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আছে তাদেরকে আমরা বিচারের আওতায় এনে, শহীদদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দিকে এগুবো। আমরা বিচারের সাথে সাথে সংস্কারের কাজের কথা বলছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কমিশন সংস্কারের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছেন। খুব শীঘ্রই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐক্য মতের ভিত্তিতে আমরা যে সংস্কার না করলেই নয় নির্বাচনের পূর্বে সে সকল সংস্কার করতে চাই।

মাহফুজ আলম বলেন, এ সংস্কার গুলো মুখের বুলি নয়, শেখ হাসিনা যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার কারণে আমাদের আমাদের মা-বোনেরা গুম, খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, বাচ্চারা গুমের শিকার হয়েছেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, আহত হয়েছেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো হাসিনাকে টিকিয়ে রেখেছে, সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই রকম রেখে নির্বাচন করতে পারিনা। নির্বাচন করার আগে আমাদেরকে অবশ্যই হাসিনার প্রতিষ্ঠান, হাসিনার দালালদের, ফ্যাসিবাদের দালালদের উৎখাত করেই এবং খুনিদের বিচার করেই আমাদেরকে নির্বাচন দিকে এগুতে হবে।

বলেন, যে উন্নয়ন প্রকল্পে গণতন্ত্র ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, সে উন্নয়ন প্রকল্প নয়- সত্যিকার উন্নয়নের চেষ্টা আমরা করছি। বিশেষ করে আমার তরফ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। ১৭ বছর লক্ষ্মীপুর সহ সারা দেশে উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন হয়েছে শুধু গোপালগঞ্জের।

রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সহ-সভাপতি জাকির হোসেন ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন রামগঞ্জ মডেল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও চাঁদপুর গৃদকালন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আব্দুল বাতেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ