ওয়ারেন্ট নিয়ে নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ৯, ২০২৫ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ৯, ২০২৫ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
এগারো বছরের বেশি সময় আগে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ঢাকা মহানগর ৩৮ (বর্তমান ২৫) নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন। ভাইকে ফিরে পেতে এমন গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে নিয়ে ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি।
বৃহস্পতিবার (০৮ মে) সন্ধ্যায় সেই সুমনের বাসায় ওয়ারেন্ট নিয়ে গিয়েছিল তেজগাঁও থানা পুলিশ।
শেখ হাসিনা সরকারের টার্গেটেড গুমের শিকার হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সুমনের পরিবার এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন প্রায়ই। হয়রানিও করা হয়েছে অনেক। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও আগের মতো পুলিশ ওয়ারেন্ট নিয়ে এসে নিখোঁজ সুমনকে গ্রেপ্তার করতে আসবে, তা মানতে পারছেন না তার বোন সানজিদা তুলি।
বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কালবেলাকে বলেন, বছরের পর বছর গুম খুন নিয়ে আন্দোলন করার পর আজ এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে তা অবিশ্বাস্য। যেখানে আমি, আমার পরিবার এখনো জানি না, আমার ভাইয়ের ভাগ্যে কী হয়েছে, সেখানে আজ তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আমলে করা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে এসেছে পুলিশ। আমার নিখোঁজ ভাইকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে তারা। আমার বলার কোনো ভাষা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৩টি ওয়ারেন্ট নিয়ে সুমনের বাসায় গিয়েছিল তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ সদস্যরা চলে আসে।
ওয়ারেন্ট নিয়ে সুমনের বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন কালবেলাকে বলেন, জমে থাকা ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। এরমাঝে আমাদের এখানে সাজেদুল ইসলাম সুমনের নামে ৩টি ওয়ারেন্ট ছিল। অন্য ওয়ারেন্ট তামিল করার মতোই, এই ওয়ারেন্টগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন একজন কর্মকর্তা। তিনি নতুন হওয়ায় সুমনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতেন না। না বুঝেই পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে গিয়েছিলেন। বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে কথা বলে অফিসার চলে আসে।
মোবারক হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পর ব্যক্তিগতভাবে নিখোঁজ সাজিদুল ইসলাম সুমনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে যেন আমার অফিসাররা সতর্ক থাকেন, সে ব্যাপারেও বলা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সুমন। সেদিন তার সঙ্গে ছিলেন আরও পাঁচজন। নিখোঁজের কিছুক্ষণ পরেই খবর পায় পরিবার। এর পর থেকে আশপাশের থানা, ডিবি অফিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সুমনের সন্ধান দিতে পারেননি কেউ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।
সেদিনই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সুমনকে বাল্যবন্ধু পরিচয় দিয়ে লিখেন, এমনই এক জালিমের শাসনে ছিলাম যে তোর জন্য, সুমন, একটা কথাও বলতে পারি নাই। পরে জানলাম মানুষরুপী জানোয়ার জিয়াউল আহসানের নির্দেশে তোরে ইনজেকশন দিয়ে মেরে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়। যে বাবার ঘরে ফিরে সন্তানের সাথে ভাত খাওয়ার কথা ছিল তাকে এই ডাইনির দল শীতলক্ষ্যার মাছেদের খাবারে পরিণত করে। এই হায়েনাদের হয়ে যখন কেউ কথা বলতে আসে, আমার মাথায় রক্ত ওঠে যায়। আমি আমার কমপোজার লুজ করি।
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫, ০৩:০২ এএম|অনলাইন সংস্করণ
অ- অ+ facebook sharing button messenger sharing button whatsapp sharing button copy sharing button
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা X
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় তারা ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কর, করতে হবে, আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাত দেড়টায় অবরোধ উঠিয়ে নেয় শিক্ষার্থীরা।
গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে পরিশোধিত করে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা যারা করবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই করব। আমরা জুলাইয়ের যোদ্ধারা এখনো আছি প্রয়োজনে আবারো জীবন দেব কিন্তু আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেব না।
জাবি শাখা ছাত্র শিবিরের অফিস সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, যে আওয়ামী লীগ আমার ভাইদের বুকের ওপর গুলি করেছে, যে আওয়ামী লীগ আমার শিশুদের বুকে গুলি করেছে, যে আওয়ামী লীগ আমার বোনদের বেদম পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে সেই আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নাই। অনতিবিলম্বে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
জাবি শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ৫ আগস্টেই এ দেশের ছাত্র-জনতা রায় দিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ফিরবে কিন্তু তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ফিরবে, রাজনীতি করার জন্য নয়।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা যদি জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে তাদেরকেও ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
সাবেক মেয়র আইভীকে আটকের খবরে বাড়ি ঘেরাও
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ মে ২০২৫, ০২:২৮ এএম|অনলাইন সংস্করণ
অ- অ+ facebook sharing button messenger sharing button whatsapp sharing button copy sharing button
সাবেক মেয়র আইভী রহমানের বাড়িতে পুলিশের অবস্থান। ছবি : সংগৃহীত X
সাবেক মেয়র আইভী রহমানের বাড়িতে পুলিশের অবস্থান। ছবি : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে আটকের খবরে তার বাড়ি ঘিরে রেখেছে এলাকাবাসী। এ সময় বাড়ির প্রধান ফটক ঘিরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিবাগত রাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় চুনকা কুটির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে আইভীকে আটক করতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পুলিশের একটি দল দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত আইভীর বাসভবন চুনকা কুটিরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশের অভিযানের খবরে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে পুলিশ সদস্যরাও বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এদিকে এই খবর শুনে চারদিক থেকে শত শত এলাকাবাসী তার বাড়ির সামনে এসে ভিড় করে। এ সময় তারা মেয়র আইভীকে নিয়ে স্লোগানে দেয়।
এ সময় আইভীর বাড়ির প্রবেশ পথের দুই রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। এ ছাড়া আশেপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, কিছুক্ষণ আগে আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশ এসেছিল। এতে পুরো এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে সাবেক মেয়র আইভীকে পুলিশ আটক করতে এসেছে। একথা শুনে এলাকাবাসী সবাই তার বাড়ির সামনে এসে অবস্থান নেন। তবে মেয়র আইভীকে পুলিশ আটক করেছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জনতার আওয়াজ/আ আ