কক্সবাজার ১-ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায় বিএনপি, পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১:২৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর থেকে কক্সবাজার জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনের আমেজ বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেসব কর্মসূচি পালন করছেন বা অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন সেখানেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আলোচনা হয়। এ ছাড়া তরুণ ভোটার যারা বিগত তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, তারা উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংসদ নির্বাচন ঘিরে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ ও লবিং শুরু করেছে।
একদিকে চলছে নির্বাচনের আমেজ, অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন- তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। জাতীয় সংসদের ২৯৪ সংসদীয় আসন হচ্ছে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)। পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনকে ঘিরেই এখন থেকে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু করেছে ভোটাররা। এদিকে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায় বিএনপি। দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রয়েছে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনটি। বিগত চারটি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপি’র শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার সহধর্মিণী সাবেক এমপি এডভোকেট হাসিনা আহমদ। এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ তিনবার এবং হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো বিজয় ধরে রাখতে চায় বিএনপি। তাদের মধ্যে যেকোনো একজন এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী।
অন্যদিকে, মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। রাতদিন গণসংযোগ করছেন। যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। এখনো তফসিল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এরপরও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনটি পুনরুদ্ধার করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন জামায়াত। ’৯১ সালে এই আসনে জামায়াত নেতা অধ্যাপক এনামুল হক মঞ্জু বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর থেকে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। এখনো অন্যদলের প্রার্থীরা মাঠে না থাকলেও জামায়াত নেতা ফারুক গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন।
গত বছরের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চকরিয়া-পেকুয়া আসনে ৫-৬টি নতুন রাজনৈতিক দল মাঠে থাকলেও তাদের তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ ইলিয়াছের সহধর্মিণী হোসনে আরা। তিনি গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একইভাবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব ও আহলে সুন্নাত জামায়াত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা শাখার (উত্তর) সভাপতি চকরিয়া সিটি কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন খালেদ ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন তিনি। তার মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানান তিনি। এ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবদুল কাদের প্রাইম, এবি পার্টির পর্যটন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক এবি ওয়াহাব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চকরিয়া উপজেলার সমন্বয়ক সাজ্জাদ হোসেন ও ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের অধ্যক্ষ এম এ আজিজের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এদিকে, চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে ১৯৯১ সালে জামায়াত প্রার্থী এনামুল হক মঞ্জু ও ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী বর্তমান বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ কারাবন্দি থাকায় তার স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. শামসুদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুল করিম চৌধুরী ও ’৮৮ সালে জাতীয় পার্টির এএইচএম সালাহউদ্দিন মাহমুদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে ৪৩ বছর পর ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত জাফর আলম। বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টি (এরশাদ)’র প্রার্থী ও জেলা জাপার আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জনতার আওয়াজ/আ আ