কথার জাদুকরের জন্মদিন শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, নভেম্বর ১৪, ২০২৫ ৬:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, নভেম্বর ১৪, ২০২৫ ৬:১৬ অপরাহ্ণ

গাজীপুর ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭৮তম জন্মদিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। তাকে স্মরণ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা ছুটে গেছেন গাজীপুরের নুহাশপল্লি ও তার জন্মস্থান নেত্রকোনায়। প্রিয় লেখককে ঘিরে এই দুই জেলায় দিনটি পরিণত হয়েছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার উৎসবে।
গতকাল সকাল থেকেই গাজীপুরের নুহাশপল্লিতে শুরু হয় স্মরণ ও শ্রদ্ধার নানা আয়োজন। সকালে লেখকের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই পুত্র নিনিত ও নিষাদ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লেখকের অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী। এ সময় হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। সন্ধ্যায় নুহাশপল্লির লিচুতলায় প্রজ্বলিত হয় ১ হাজার ৭৭টি মোমবাতি। পরে কাটা হয় কেক। প্রিয় লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা ভক্তদের মধ্যে কেউ এসেছেন ‘হিমু’র মতো হলুদ পাঞ্জাবি পরে, কেউ হাতে ফুল নিয়ে; সবার উদ্দেশ্য এক, প্রিয় লেখককে স্মরণ করা।
কবর জিয়ারতের পর মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূনের স্বপ্নের ক্যানসার হাসপাতাল ও জাদুঘর বাস্তবায়নে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতার দায় আমি নিচ্ছি। তার স্বপ্নপূরণের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ।’
নুহাশপল্লির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, প্রতিবছরই লেখকের জন্মদিনে হাজারও মানুষ নুহাশপল্লিকে ভরে তোলেন শ্রদ্ধা আর স্মৃতিচারণায়।
এদিকে নিজ জেলা নেত্রকোনায়ও নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে কথার জাদুকরের জন্মদিন। গতকাল দুপুরে শহরের তরুণদের উদ্যোগে ‘হিমু পাঠক’-এর আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে হিমু উৎসবের কেক কেটে উদযাপন হয় জন্মদিন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, সাংবাদিক আলপনা বেগমসহ অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ এপার-ওপার বাংলার একজন অমর কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা। তার সাহিত্যকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাকে প্রতিবছর জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত। এদিকে কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের শহিদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে হুমায়ূন আহমেদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। বাবা ফয়েজুর রহমান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা ও লেখক, মা আয়েশা ফয়েজ গৃহিণী। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
একাধারে শিক্ষক, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গীতিকার হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান দখল করে আছেন। তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশের পরই তিনি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পান। হিমু, মিসির আলি, শুভ্র ও রূপার মতো চরিত্র তার সৃষ্টির অবিস্মরণীয় নিদর্শন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত এই লেখক ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাকে তার গড়া নুহাশপল্লির লিচুতলায় দাফন করা হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ