কাদিয়ানিদের নিষিদ্ধ না করলে কঠোর কর্মসূচি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কাদিয়ানিদের নিষিদ্ধ না করলে কঠোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ১১:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

 

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানিদের সমাবেশকে ঘিরে নিরীহ মুসল্লিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে কাদিয়ানিদের অমুসলিম আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খতমে নবুওয়তের আক্বিদা ও বিশ্বাস মুসলমানদের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য সবশেষ নবী ও রাসুল। তার নবুওয়তের সার্বভৌমত্ব কোনোকালেই খর্ব হবে না। আল্লাহর তরফ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত নতুন কোনো নবীর আবির্ভাব হবে না।


এ বিশ্বাস যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিজেকে মুসলমান রূপে পরিচিত করার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। কেউ এ শর্ত অমান্য করলে, এমনকি যে কোনো ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে নবীর (সা.) নবুওয়তের মধ্যে সামান্যতম ভাগ বসানোর অপপ্রয়াস চালালে সে নিজেকে মুসলিম দাবি করতে পারে না। সে মুসলমান নয়। নবীর (সা.) প্রতি এই সুস্পষ্ট বিশ্বাস ও আনুগত্যই মুসলিম জাতির অস্তিত্ব রক্ষার চাবিকাঠি।

তারা বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইংরেজ বেনিয়ারা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে তাদেরই সার্বিক সহযোগিতায় মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি নামক এক ভণ্ড প্রতারককে নবী দাবি করার প্ররোচিত করে দেয়। তখন সে নিজেকে নবী বলে দাবি করে কিছু মনগড়া ভ্রান্ত আক্বিদার সমন্বয়ে এক নতুন ধর্মমতের গোড়াপত্তন করে এবং এই মনগড়া ধর্মকে ইসলাম ও তার অনুসারীদের আহমদিয়া মুসলিম নাম দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির রচনাসমগ্র ‘রূহানী খাযায়েন’ নামক পুস্তক থেকে উদ্ধৃতি সহকারে ৭২টি ভ্রান্ত দাবি তুলে ধরে বলা হয়, কাদিয়ানি মতবাদ একটি কুফুরি মতবাদ। এই মতের অনুসারীগণ মুসলিম নয়। শুধু তাই নয়, যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি কাদিয়ানিদের কাফের হওয়ার বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করে, তিনিও কাফের হয়ে যাবেন। যুগে যুগে মুসাইলামাতুল কাজ্জাব, তুলাইহা, আসওয়াদ আনাসীর মতো অনেক ভণ্ড ও মিথ্যাবাদীর উদ্ভব হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ এদের সব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় মিথ্যা নবী দাবিদার মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।

ওই সময় তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো
১. কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে তাদের যাবতীয় বইপুস্তক, লিটারেচার, লিফলেট, পাক্ষিক, মাসিক পত্র-পত্রিকা মুদ্রণ, প্রচার, সংরক্ষণ, বিতরণ ও সভা সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

২. হামলা ও হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৩. নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং ওই ঘটনায় কাউকে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা যাবে না।

কর্মসূচি
১. আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী সব মসজিদে আক্বিদায়ে খতমে নবুওয়তের ওপর আলোচনা করা এবং শহীদ আরিফুজ্জামানসহ আহত সবার জন্য বিশেষ দোয়া।

২. দ্রুত সময়ে উপরোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না করলে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা মাওলানা মাহফুজুল হক, মুহিউদ্দিন রাব্বানী, জহুরুল ইসলাম, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, মুফতি মাসউদুল করীম, মুফতি রুহুল আমীন বাহাদুরপুরী, এনামুল হক মুসা, রাশেদ বিন নূর, আরিফ বিল্লাহ, মুফতি আল আমীন ফয়জী, আফসার মাহমুদ, যুবায়ের রশীদ, সাঈদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মাওলানা ইসহাক, মাওলানা নাসির উদ্দীন, মাওলানা মেরাজুল ইসলাম, মাওলানা ইউনুস কাসেমীসহ অনেকে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ