কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে রাঙামাটিতে বর্ষবরণ শুরু - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৩২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে রাঙামাটিতে বর্ষবরণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬ ৫:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬ ৫:২৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
রাঙামাটির তবলছড়ির কেরানী পাহাড় ঘাটে কাপ্তাই হ্রদের তীরে সমবেত হন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ। ছবি: খবরের কাগজ

পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে আজ শুরু হয়েছে তিন দিনের বর্ষবরণ উৎসব। পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নদীতে ফুল ভাসায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা। তাদের বিশ্বাস, এ ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা, অমঙ্গল মুছে গিয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি, কল্যাণ বয়ে আনে। পাহাড়ের প্রধান এ সামাজিক উৎসবকে ঘিরে নানান বর্ণে আর আয়োজনে সেজেছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পাহাড়ি জনপদ। উৎসবের এ আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের তীরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব।

রাঙামাটির রাজবন বিহারের পূর্ব ঘাটে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসান শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ। এ ছাড়া শহরের গর্জনতলী মধ্যম দ্বীপে ও তবলছড়ির কেরানী পাহাড় ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ভাসানো হয়েছে ফুল।

মূলত চৈত্রসংক্রান্তিতে বাংলাবষের্র বিদায় ও বরণ উপলক্ষে এ উৎসব উদযাপন করে পাহাড়ি জনগণ। চলে ২৯ চৈত্র থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাইং আর চাকমারা উৎসবটিকে বিজু নামে পালন করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। এর বাইরে তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা সাংক্রান ও অহমিয়ারা বিহু, সাঁওতালরা পাতা নামে তিন দিনের উৎসব পালন করে।

আজ সকালে রাঙামাটির তবলছড়ির কেরানী পাহাড় ঘাটে ফুল ভাসাতে কাপ্তাই হ্রদের তীরে সমবেত হন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ। সেখানে কথা হলে কলেজছাত্রী হ্যাপী তালুকদার বলেন, ‘আজ আমাদের ফুল বিজু। গঙ্গা মায়ের উদ্দেশে আমরা পানিতে ফুল ভাসাই। গেল বছরে আমাদের যা দুঃখ, কষ্ট, মনের আশা অপূরণ ছিল সেগুলো যেন পূরণ হয় সে প্রার্থনা করেছি।’

চিকিৎসকপত্নী হেলেন দেওয়ান বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো আমরা সবাই মিলে ফুল ভাসাতে এসেছি এখানে। সবার প্রত্যাশা, আমরা সুখে-শান্তিতে থাকব। দেশের উন্নয়ন তথা সুখ সমৃদ্ধি, এটাই চাই আমরা।’

তরুণ আকাশ চাকমা বলেন, ‘নতুন বছর যেন সবার ভালোভাবে কাটে সে প্রার্থনা করেছি। আর মন থেকে প্রার্থনা থাকবে, জগতের সব প্রাণী যেন সুখী হয়, দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করে। এই শুভ দিনে এটাই প্রত্যাশা করি।’

আগামীকাল ১৩ এপ্রিল উদযাপিত হবে উৎসবের মূলদিবস। এ দিন চাকমারা মূলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করে উৎসবটি। ১৪ এপ্রিল অর্থ্যাৎ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে, মারমারা সাংগ্রাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করবে। এদিন একাট্টা পালিত হবে নববর্ষবরণ বা বৈশাখী উৎসব।

এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী রাঙামাটিসহ তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে জলোৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের এ বর্ণিল উৎসব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ