কারাগারে অসুস্থ যুবদল নেতা, ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে নেয়া হলো হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩ ৩:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩ ৩:৩২ অপরাহ্ণ

যশোর প্রতিনিধি
যশোরে কারাগারে থাকা যুবদলের এক নেতাকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, খাওয়ার সময়ও তার হাতকড়া খোলা হয়নি। স্বজনদের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
ওই যুবদল নেতার নাম আমিনুর রহমান মধু। তিনি যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি। একইসঙ্গে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তিনি। গেল ২ নভেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্ডাবেড়ি পরা তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে এমন আচরণের সমালোচনা চলছে। বিএনপি নেতারা এটিকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. শরিফুল আলম বলেন, যশোরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আমিনুর রহমান কারাগারে আসেন। তার হার্টে আগেই রিং পরানো ছিল। কারাগারে আসার পর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর আজ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে যশোরে পাঠানো হয়েছে।
ডান্ডাবেড়ি পরানোর বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, কারাগার থেকে যখন কোনো আসামিকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে কারাবিধি অনুযায়ী ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়। যদি কোনো আসামি অসুস্থ হন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো বিষয় নেই।
জানা গেছে, আটকের পর ১২ নভেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় আমিনুর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। কারাগার থেকে তার দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া লাগিয়ে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ১৩ নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে ও ডান হাতে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমিনুর রহমান মধুকে জামিন না দেওয়া ও চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদত খান বলেন, বাংলাদেশে আইন কাগজকলমে আছে, বাস্তবে নেই। আমিনুর রহমান মধু যে রোগে অসুস্থ তাতে যেকোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার ওপর একজন শিক্ষককে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে রাখা দেশ ও জাতির জন্যে খুবই লজ্জাজনক।
এ বিষয় যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, বিষয়টা খুবই আমনবিক। একজন হৃদ্রোগ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এভাবে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়। আইন-আদালত মানুষের কল্যাণের জন্য, অকল্যাণের জন্য নয়।
আমিনুর রহমান মধুর স্ত্রী নাহিদা সুলতানা লাবনী বলেন, ‘পরিবারের অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি আমার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায় তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তার ওপর কত অমানবিকভাবে দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ