কারাগারে ফখরুল আব্বাস-খসরুর তিন মাস - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কারাগারে ফখরুল আব্বাস-খসরুর তিন মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪ ১০:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। এরপর পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে হয়েছেন একাধিকবার এমপি-মন্ত্রী। এক যুগের বেশি সময় সামলাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব। তবুও গায়ে লাগেনি বিতর্কের তকমা। তার বিরুদ্ধে কখনো ওঠেনি দুর্নীতির অভিযোগও। রাজনীতিতেও পরিচিতি পেয়েছেন সজ্জন ব্যক্তির। ৭৮ বছর বয়সী ক্লিন ইমেজের এই মানুষটি কারাগারে আছেন দীর্ঘ ১০০ দিন ধরে। ২৮শে অক্টোবর মহাসমাবেশে সংঘর্ষের পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ১১টি মামলা।

যার ১০টিতেই জামিন পেয়েছেন তিনি। একমাত্র প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনার মামলাটিতে তার জামিন বারবার আটকে দেয়া হচ্ছে। যদিও একই মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ ১৫ জন নেতা। কিন্তু বিএনপি মহাসচিবের জামিন চারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই মামলায় জামিন পাচ্ছেন না দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দুই ডজন সিনিয়র নেতা। জামিন প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে দুরভিসন্ধি দেখছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চললে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা জামিন পাওয়ার হকদার। কারণ জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয় সবগুলো ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে তারা পড়েন।
এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের চার জমানায় মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ১১১টি মামলা। যার সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক। এর আগে আটবার গ্রেপ্তার হয়ে ৩৮৪ দিন কারাভোগ করেন তিনি। এবার নিয়ে ৯ম বারের মতো কারাগারে গেলেন তিনি। গত ২৬শে ডিসেম্বর কারাগারেই কেটেছে মির্জা ফখরুলের ৭৮তম জন্মদিন। ওইদিন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, কন্যা ও বোন তার সঙ্গে কেরানীগঞ্জ কারাগারে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্ত্রী রাহাত আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মির্জা ফখরুলের ৫ কেজি ওজন কমে গেছে। উচ্চ রক্তচাপ, আইবিএস, মেরুদণ্ড, দাঁতের সমস্যাসহ আরও বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত। গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগেও তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়েছেন। কারাগারে বই ও পত্রিকা পড়ে সময় কাটান বিএনপি মহাসচিব।

ওদিকে মহাসমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনার দু’দিন পর গ্রেপ্তার করা হয় মির্জা আব্বাসকে। এরপর তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এর মধ্যে গতকাল ৯টি মামলার শুনানি হয়েছে। এরমধ্যে ৬টি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। ৭২ বছর বয়সী মির্জা আব্বাস বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। প্রায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন তিনি। এদিকে ২রা নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের হয়। এরমধ্যে ৯টি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। একমাত্র প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জামিন পাননি তিনি। ওই মামলায় আজ জজ কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু মানবজমিনকে বলেন, বাবার বয়স ৭৬ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অ্যাজমা রোগে ভুগছেন। প্রায় সময় ইনহেলার নিতে হয়। এছাড়া ব্লাডপ্রেশার ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার (শ্বাস বন্ধ হওয়া) রয়েছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে তিনি কারাভোগ করছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আশা করছি অসুস্থতার বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দেবেন।

মির্জা ফখরুলের আইনজীবী এডভোকেট জয়নাল আবেদিন মেজবাহ বলেন, মামলায় বিএনপি মহাসচিবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। সমাবেশের মঞ্চ থেকে হামলার ঘটনাস্থল অনেক দূরে ছিল। তারপরও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। জামিনের জন্য আমরা সিএমএম কোর্ট, জজ কোর্ট, হাইকোর্টে আবেদন করেছি। সর্বশেষ সিএমএম কোর্টও তাকে জামিন দেননি। গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে উনি সবচেয়ে বয়স্ক রাজনীতিবিদ। এছাড়া উনি অনেক অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। উনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার জামিনের জন্য চলতি সপ্তাহে জজ কোর্টে ফের আবেদন করবো। জজ কোর্ট জামিন না দিলে হাইকোর্টে যাবো। আশা করছি, উনার মতো পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে জামিন দেবেন আদালত।

বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আসামির জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে। এরমধ্যে রয়েছে- আসামির বয়স, অসুস্থতা, জামিন পেলে আসামি পালাবে কিনা এবং মামলার তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে কিনা। বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা সবগুলো ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়েন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বয়স্ক ও অসুস্থ। তারা একটি বড় রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তারা কখনো পালাবেন না। আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলে তাহলে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা জামিন পাওয়ার হকদার। আমি বিশ্বাস করি- জামিন পাওয়া থেকে আদালত তাদের বঞ্চিত করবে না। দেশে আইনের শাসন আছে কিনা সেটা বোঝা যাবে তাদের জামিন পাওয়া না পাওয়ার ওপর।মানবজমিন

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ