কারাবন্দীদের স্বজনের আর্তনাদ বিএনপি করা অপরাধ হলে আমাদের মেরে ফেলুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ১:২২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ১:২২ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির কারাবন্দি স্বজনদের কর্মসূচিতে অন্যদের সাথে তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে উপস্থিত হন আটক শরীফের স্ত্রী স্বপ্না : আবদুল্লাহ আল বাপ্পী –
বিএনপির নির্যাতিত নেতাদের স্বজনের আকুতিতে গতকাল ভারী হয়ে উঠেছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের চত্বর। নেতাকর্মীদের স্বজনরা গতকাল দুপুরে এক মানববন্ধনে জড়ো হয়ে বলেন, সারা দেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অন্যায়ভাবে তাদের আপনজনদের গ্রেফতার ও গুম, খুন করছে। অনেক নেতাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে দিনের পর দিন বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে। কেউ কেউ কারাগারে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা বলেন, কখনো কখনো বিএনপি নেতাদের না পেলে তাদের স্বজনদের অন্যায় ও অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতে অনেকের পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। এভাবে বেঁচে থাকা কঠিন। বিএনপি করা অপরাধ হয়ে থাকলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলুন। এভাবে একজন একজন করে কষ্ট দিয়ে মারবেন না। আমরা এখন পুরো পরিবারই মরার জন্য প্রস্তুত।
জাতীয় প্রেস ক্ল¬াবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ঢাকাসহ সারা দেশের কয়েক শত বিএনপি নেতার স্বজন অংশগ্রহণ করেন। ‘রাজবন্দীদের স্বজন’ ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত অনেকের হাতে ছিল প্রিয় স্বজনের প্রতিকৃতিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড। স্বজনরা অনুষ্ঠানে তাদের কষ্ট ও বেদনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে পুরো সমাবেশস্থলে এক মর্মস্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধন শেষে প্রধান বিচারপতি বরাবর ‘ফরমায়েশি ও গায়েবি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও আটক রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে’ একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।
মানববন্ধনে নির্যাতিত ও কারাবন্দী নেতাদের পরিবারের স্বজনদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বোন সাহিদা মির্জা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহানের স্ত্রী রহিমা শাহজাহান মায়া, খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সহধর্মিণী মাহবুবা খানম, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের স্ত্রী শায়লা জামান, ইদরিস আলীর স্ত্রী শিউলি বেগম, ইউনুস মৃধার মেয়ে আনিতা, যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রাজিয়া, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মেয়ে ব্যারিস্টার তাবাসসুম, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের স্ত্রী শাহানা ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিবের স্ত্রী শাহানারা মায়া, ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমানের ভাতিজি মার্জিয়া প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর যুবদলের নেতা লিয়ন হক ও রাজিব হাসানের বোন আফরোজা পারভীন জেবা বলেন, আমার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক ভাইকে পুলিশ এক মাস গুম করে পরে গ্রেফতার দেখিয়েছে। আমার পরিবার সদস্যদের গ্রেফতার-গুম-খুন করে সরকার তছনছ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এক বছর আগে আমার ভগ্নিপতিকে লক্ষ্মীপুরে র্যাব গুলি করে মেরে ফেলেছে। তিনি বিএনপি করতেন। আমরা ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিলে র্যাব আমাদেরকে মৃত লাশটা দেয়। তারা প্রথমে লাশ পর্যন্ত দিতে চায়নি। শেখ হাসিনাকে বলব- যদি আমার এবং আমার পরিবারের বাঁচার অধিকার না থাকে তাহলে আমাদের সবাইকে একসাথে মেরে ফেলুন, একজন একজন করে কষ্ট দিয়ে মারবেন না। আমরা বিএনপির রাজনীতি করে অপরাধ করেছি- আমরা পুরো পরিবার এখন মরতে চাই।
বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী শায়লা বেগম বলেন, রাত ২টায় দরজা ভেঙে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশকে কত আকুতি মিনতি করলাম যে বয়স্ক অসুস্থ নির্দোষ লোকটা না নিয়ে যেতে; কিন্তু পুলিশ বাসায় ভাঙচুর করে নির্দয়ভাবে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
শিরিন সুলাতানা বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ তাকে কারাগারে ডিভিশন দেয়নি। তবে বলব এই সরকারের পরিণতি ভালো হবে না।
জেলখানায় নিহত বিএনপি নেতার আবুল বাশারের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে মেরে আমার সন্তানকে এতিম করেছে, পুলিশ গ্রেফতার, অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করেছে, যার ফলে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। কারণ গ্রেফতার করে হত্যা তো কোনো বিচার নয়।
যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া বলেন, আমার কোথায় যাবো? আমার স্বামীর মামলার বাদি পুলিশ, মামলা করলও পুলিশ, সাক্ষী দিলোও পুলিশ- এটা কেমন বিচার! আদালতে বিচারকের সামনে এমন অবিচারের প্রতিবাদ করলে বিচারক বলেন ‘এখানে আইনের কথা বলবেন না’।
বিএনপি নেতা শাহজাহানের স্ত্রী রহিমা শাহজাহান মায়া বলেন, আমার স্বামীকে দুই বছরের জেল দিয়েছে, তার কোনো দোষ নেই, আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে- আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুক।
ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আবদুল হাই ভূঁইয়া বলেন, আমার তিন ছেলে ও এক ছেলের বউকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন করছে জেলে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের দেখতে গেলেও আত্মীয়-স্বজনকে আটকে থানায় হয়রানি করছে পুলিশ। আমি দেশে-বিদেশের বিবেকবান মানুষকে বলতে চাই; আমরা কিভাবে দিন কাটাচ্ছি, একটু চিন্তা করুন। ২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা কাউসার হোসেনের স্ত্রী মিনা আক্তার বলেন, আমার সন্তানের বয়স ১৩ বছর, সে বুঝ হওয়ার পর বাবাকে দেখেনি। যখন সে বলে ‘মা আমার বাবার মুখ কি আর দেখতে পারব না? তখন আমার বুকটা ফেটে যায়।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মেয়ে ব্যারিস্টার তাবাসসুম বলেন, আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অথচ তাকে মুক্তি না দিয়ে জেলে ভরে রেখেছেন- আমার বাবার মুক্তি চাই।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য কাদের গণি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। আরো অংশ নেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ইউট্যাবের ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ড. আব্দুল করিম, ড. আবু জাফর, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-এ্যাব-এর প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মো: মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, এ কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু, মাহবুব আলম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা: পারভেজ রেজা কাকন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো: শামসুল আলম, অধ্যাপক মো: কামরুল আহসান, অধ্যাপক মো: নুরুল ইসলাম ও মো: নজরুল ইসলাম।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, জেএসডির শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন, বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত আবদুল কাইয়ূম, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, মুহাম্মদ রাশেদ খান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আজকে এই সরকারের আমলে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বাবাকে না পেয়ে ছোট শিশুরা কান্না করছে। স্বামীকে না পেয়ে স্ত্রীরা কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবস্থা আজকে করুণ। তবে আমরা সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি।
২৮ অক্টোবরের পর গ্রেফতার হওয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী অসুস্থ আফরোজা আব্বাস হুইল চেয়ারে করে কর্মসূচিতে আসেন। সরকারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ওরা এত নির্মম, ওরা অত্যাচারী। ছোট ছেলেকে না পেলে বড় ভাইকে ধরে নিয়ে যায়, বড় ছেলেকে না পেলে বাবাকে নিয়ে যায়, বাবাকে না পেলে বোনকে নিয়ে যায়। আমরা এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছি। এটা কেমন দেশ? এখানে এসেছেন এক কারাবন্দী নেতার স্ত্রী তার দু’জন শিশুকে নিয়ে। ওই শিশুদের বাবাকে পুলিশ কারাগারের নিয়ে গেছে। তারা আজকে প্রতিবাদ করার ভাষা ভুলে গেছে, প্রতিবাদ করলে দেখা যায় তাকেও ধরে নিয়ে যায় বাসা থেকে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, লুতফুজ্জামান বাবর, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারওয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, আসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শরিফুল আলম, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শামীমুর রহমান শামীম, শেখ রবিউল আলম, রফিকুল ইসলাম মজনু, আমিনুল হক, সাইফুল আলম নিরব, মুনায়েম মুন্না, আবুল কালাম আজাদ, এস এম জাহাঙ্গীর, আকরামুল হাসান, আজিজুল রহমান মোসাব্বির, আনিসুর রহমান লাকুসহ জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখের মুক্তি দাবি জানান আফরোজা আব্বাস।
মানববন্ধনে কারাবন্দী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম অসুস্থ থাকায় তার একটি ছোট চিঠি পড়ে শোনান মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই স্বজনরা আছেন তাদের বুকের কান্না আপনারা শুনেছেন। আপনারা সবাই জানেন, গ্রেফতার করবার জন্য গিয়ে তাকে না পেয়ে যাকে-তাকে গ্রেফতার করছে, ভাইকে গ্রেফতার করছে। একেবারে হৃদয়হীন একটা সরকার। এরা মানুষের কষ্টে আনন্দ পায়। এরা এতই হৃদয়হীন, এত পাষাণ তাদের হৃদয়, এসব কথায় ওদের চিঁড়া ভিজে না। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা এখন একদম সরকারের হাতের মুঠোয়। পুলিশগুলো চলে সরকারের নির্দেশে, তার বাইরে নয়। অতএব লড়াই করতে হবে সরকারে বিরুদ্ধে রাজপথে। আমি মনে করি, হাজার হাজার নেতাকর্মীর হাজার হাজার স্বজন রাজপথে আসতে পারেন। আজকে যারা আয়োজক তাদেরকে অনুরোধ করব সেই পথে যান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় যে রকম মানবিক বিপর্যয় চলছে সে রকমই পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান। উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বাংলাদেশে বিরোধী দল করা কি অপরাধ? সরকার কি বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে? তাহলে কেন এভাবে অন্যায়, অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে? আজকে বিচারব্যবস্থার ওপরও সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। অথচ মানুষের শেষ ভরসা বা আশ্রয়স্থল হলো বিচার বিভাগ। বিচারের নামে ফরমায়েশি সাজার নাটক বন্ধ করেন। আওয়ামী লীগ কিন্তু শেষ সরকার নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মৃত্যু ঘটেছে। তারা প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশি ত্রাস বন্ধ করতে আদালত রুল জারির মাধ্যমে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, প্রধান বিচারপতি আমরা পরিষ্কার করে এই নিবেদন আপনার কাছে রাখতে চাই, গত ২৮ অক্টোবর যে সমাবেশগুলো ছিল তার মধ্যে বিএনপির মহাসমাবেশে আমরা মনে করি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কিছু এজেন্টকে দিয়ে সেখানে পরিকল্পিত সহিংসতা তৈরি করা হয়েছে। সেই সহিংসতাকে ব্যবহার করে সরকার সমস্ত দোষ বিরোধী দলের ওপরে দিয়ে নির্বিচারে একটা সর্বাত্মক দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদেরকে শত শত মামলা দিয়ে আজকে পযর্ন্ত প্রায় ১৯/২০ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কাস্টিডিতে তাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। এমনকি গণতন্ত্রের মঞ্চের নেতাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা সাজানো হচ্ছে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালত আজ কারো জামিন দিচ্ছেন না। এমনকি যারা অসুস্থ, রোগে আক্রান্ত এ রকম ব্যক্তিদেরকে আসামি বানিয়েছে, তাদেরও জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে ওই নিম্ন আদালতের বিচারকরা বলছেন, তাদের নাকি কিছুই করার নেই। মাননীয় প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সামরিক স্বৈরাচারের শাসন দেখেছে, বাংলাদেশ এর আগে এমনকি নির্বাচিত সরকারের আমলেও নানারকম বিরোধী দলের ওপরে অত্যাচার দেখেছে; কিন্তু সেই সময়েও আমাদের দেশের আদালত এরকম আচরণ করেনি। আমরা আপনার কাছে বলতে চাই, আদালত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, জনগণের শেষ ভরসা। প্রধান বিচারপতি আপনি নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেন তারা যাতে ন্যায় বিচার করেন। আর আপনার আদালত যদি ন্যায় না করেন বাংলাদেশের জনগণের আদালতে কেউ রেহাই পাবেন না, আপনাদের সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি : মানববন্ধন শেষে ফরমায়েশি ও গোয়েবি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেন তাদের স্বজনরা। স্বজনদের পক্ষে আফরোজা আব্বাস এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। দুই পৃষ্ঠার এই স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক অসহনীয় পরিস্থিতিতে কারাবন্দী বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা বিচারপ্রার্থীদের শেষ আশ্রয়স্থল এই সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
এতে বলা হয়, ‘আমাদের বিশ্বাস, বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দেশের বিচার বিভাগকে রক্ষা করা, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আপনি (প্রধান বিচারপতি) অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চলমান দমন-পীড়ন, মিথ্যা, গায়েবি হয়রানিমূলক মামলায় গণগ্রেফতার, পুলিশ রিমান্ডে নির্যাতন, ঢালাও সাজা প্রদান, জামিন প্রদান না করার বিষয়ে আপনার উদ্যোগী ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। আমাদের অনুরোধ থাকবে, গণগ্রেফতারকৃত বিএনপি ও বিরোধী মতাবলম্বী রাজনৈতিক বন্দীদের আশু মুক্তির জন্য আপনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও আদালতগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’
জনতার আওয়াজ/আ আ