কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৪:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৪:১৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে। এ কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলার যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে, সেটাকেও অস্বীকার করছে বর্তমান সরকার।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে এনসিপি শুরু থেকেই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সেই সহযোগিতার পথগুলো নিজেই বন্ধ করে দিচ্ছে। তার দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারের জনপ্রিয়তা যে হারে কমেছে, তাতে আগামী ছয় মাসে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি দেশের স্থিতিশীলতা চায় এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সমর্থন করে না। তবে তাদের প্রধান দাবি হলো গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণরায় বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। এই দাবি আদায়ে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকবে বলে জানান তিনি।
তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তনের একটি স্বপ্ন দেখেছিল। গণতন্ত্রকামী জনগণ তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, দেশে আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। সেই অঙ্গীকার থেকেই বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কিন্তু নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি শুরু থেকেই এসব সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছে। পরে তারা ঐকমত্য কমিশনে যোগ দিলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে এবং নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তার দাবি, রাজনৈতিক চাপ ও বাস্তবতার কারণে বিএনপি গণভোটে অংশ নিতে বাধ্য হলেও নির্বাচনের পরপরই তারা সেই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করে।
তিনি বলেন, যে দলটির জন্মই হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণভোটকে অস্বীকার করছে, যা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, তারা একই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি দেশকে আবারও পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে তরুণ সমাজ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনতার আওয়াজ/আ আ