কালবিলম্ব না করে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে বললেন ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কালবিলম্ব না করে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে বললেন ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৩ ৮:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৩ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
কালবিলম্ব না করে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখনই সবাইকে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে এই দানবীয় সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

‘আমি ভালো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করি, এটি বিদেশিরা বলে না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘বছরের সেরা কৌতুক’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তার এ বক্তব্য এ বছরের সেরা জোক (কৌতুক)। উনার এ কথা শুনে ঘোড়াও হাসে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর এ ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকার গোটা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ডিসি-এসপিদের নিজেদের মতো সাজিয়েছে, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যত পারো মামলা দাও। আজকে মামলাকে উপেক্ষা করে মানুষ রাজপথে নেমেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট নামে আইন করে দেশের গণমাধ্যমের মুখ স্তব্ধ করতে পারলেও বিদেশি গণমাধ্যমের মুখ কীভাবে বন্ধ করবেন। গতকাল নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিলীনের পথে। লণ্ডনের একটি গণমাধ্যমে বলেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন তলানীতে ঠেকেছে। দেশের গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরলেও সাংবাদিকরাও গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে লেখার চেষ্টা করছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণকে বোকা বানাতে চায়। আজকে দ্রব্যমূল্যের এত ঊর্ধ্বগতি মানুষের ঘরের চাল নেই, ডাল নেই, তেল নেই। এই দিকে সরকারের কোন খেয়াল নেই। সরকারের খেয়াল একটাই কীভাবে ক্ষমতায় যেতে হবে, কীভাবে দেশকে শোষণ করা যায়। দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করেছে। এটাই পরিস্কার সরকার রাষ্ট্র চালাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।

তিনি বলেন, অবিলম্বে সংসদ বিলুপ্ত করে দিন। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। কিন্তু তারা জানেন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে তারা ১০টি আসনও পাবেন না। এ কারণে তারা দলীয় সরকারের অধীনে অবৈধভাবে আবারও নির্বাচন করতে চায়।

ফখরুল বলেন, আজকে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। ’৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তখন কোনো ভয় না যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তরুণরা। আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার এখনই সময়, ভয়াবহ সরকার সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজকে এই গণতন্ত্র দিবসে বলতে চাই এ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না।

বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে আদিলুর রহমানকে সাজা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আজকে আমরা সমবেত হয়েছি কারণ, এ সরকারকে বিদায় নিতে হবে। বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। যে দেশের জন্য শহীদ জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, লাখ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছে। এ গণতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ সরকার হত্যা করেছে। এ সরকার গণতন্ত্র হরণ করে বাকশালি শাসন কায়েম করেছে। এরা শুধু গণতন্ত্র হত্যাই করেনি, মানুষের সকল মৌলিক অধিকার হরণ করেছে।

তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে রাজপথে আছে। ‘৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগও অংশ নিয়েছিল। তখন কি সংবিধান লঙ্ঘিত হয়নি। মানুষের জন্য সংবিধান। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আজকে মানবাধিকারের কথা বললে অপরাধ হয়ে যায়। এর জবাব একদিন এ সরকারকে দিতে হবে।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ব গণতন্ত্রে দিবসে আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা নেই। আজকে গণতন্ত্রের পক্ষে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এ আন্দোলন বিএনপির আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। ’৭১ মুক্তিযুদ্ধের পর এটি বড় আন্দোলন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন পাকিস্তানিদের সকল অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে জাতি যেমন এক হয়েছিল, বর্তমানে একই কারণে দেশের মানুষ এক হয়েছে। যারা ক্ষমতায় আছে তারা সরকার নয়, এটি লুটেরা, খুনি ও গণতন্ত্র হত্যাকারী।

তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের প্রতিপক্ষ যারা সব কিছু দখল করে রেখেছে, বিচার বিভাগকে দখল করে রেখেছে যারা দেশের মানুষকে বাইরে রেখে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায় তাদের বিরুদ্ধে। আজকে দেশের মানুষ একদিকে আর এ সরকার আরেক দিকে। দেশের মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সে সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এই ফ্যাসিস্ট সরকার ফিরে না যাওয়া আমরা ঘরে ফিরে যাব না। এদের সময় শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, অটোপাস আর এদেশে আর হবে না। আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। স্বাধীনতার পর এই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র খেয়ে ফেলেছে। সকল দল নিষিদ্ধ করেছে। আজ তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। বাংলাদেশে যতবার গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে প্রতিবারই তারা করেছে। এরশাদের স্বৈরশাসনকে বৈধতা দিয়েছে, ১/১১-কে ক্ষমতায় এনেছে। দেশে যত খারাপ করেছে তা আওয়ামী লীগ করেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই বিএনপি সৃষ্টি হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি জনগণই জনগণের দল।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল মিল্টন, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসে শ্যামল, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কৃষকদলের যুগ্ম-সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ