কালো টাকা সাদা করার বাজেট অগ্রহণযোগ্য: ভোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০২৪ ২:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০২৪ ২:৪৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা নৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে ভলান্টারি কনজুমারস ট্রেনিং এন্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি (ভোক্তা)।
মঙ্গলবার (১১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ভলান্টারি কনজুমারস ট্রেনিং এন্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি (ভোক্তা) আয়োজিত ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মতামত ও সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল।
সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান সজল বলেন, ৬ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬ শত কোটি টাকা আর আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪ শত কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সমস্যার স্বীকৃতি আছে, কিন্তু উত্তরণ ঘটিয়ে সুসময়ে ফেরার ব্যবস্থা বা দিক নির্দেশনার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ভোক্তা’র পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভোক্তা বান্ধব বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের আয় হ্রাস, ব্যাংক ঋণখেলাপিদের দৌরাত্রা, অবৈধভাবে অর্থ পাচার ইত্যাদি বাস্তবতাকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ‘ভোক্তা’র কাছে প্রতীয়মান হয়নি। তাই প্রশ্ন থেকে যায়, এই বাজেট কতটা জনবান্ধব হলো?
তিনি বলেন, বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা নৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য। এধরণের ব্যবস্থা দুর্ণীতিবাজ দুষ্টচক্রকে আরও প্রণোদিত করবে। এমন বিধান রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। তাই ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার এ ব্যবস্থা থেকে সরকারের সরে আসা উচিত বলে ‘ভোক্তা’ মনে করে।
খলিলুর রহমান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বরাদ্দ ১ লক্ষ ২৬ হাজার ২ শত ৭২ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এবারের বাজেটে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেনশন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, শিক্ষা বৃত্তি, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানো ইত্যাদি খাত এই বরাদ্দে অন্তর্ভুক্ত। পেনশন আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সামাজিক সুরক্ষা খাতে যুক্ত করা যুক্তিসংগত নয় বলে ‘ভোক্তা’ মনে করে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি প্রত্যাশিত ছিলো। কিন্তু বাজেটে এবিষয়ে কোন কথা নেই। যা আমাদেরকে হতাশ করেছে। এবার বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ হতাশাজনক। গতবারের তুলনায় শিক্ষা খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ হলেও জিডিপির অনুপাতে তা কমেছে। বাজেটে শিক্ষা খাত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। যেখানে ইউনেস্কোর পরামর্শ একটি দেশের মোট জিডিপির ৫ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত।
এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপারিশ তুলে ধরেন খলিলুর রহমান সজল, সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতে এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা; বাজার সিন্ডিকেট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বাজেট প্রস্তাবনা সংযোজন; বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ কমিয়ে আনা; ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতির বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট ঘোষণা সংযোজন এবং স্মার্ট নাগরিক, মূল্যবোধ সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি ও শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি; এছাড়াও মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবায় বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার; ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা থেকে সরে আসা এবং ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভোক্তার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন নওরোজ, মহসীনুল করিম লেবু, সাইদুল সাইদুল আবেদীন ডলার, মিজানুর রহমান তালুকদার, নূরুন নবী।
জনতার আওয়াজ/আ আ