কিংস পার্টির ২৭০ প্রার্থীর ২৬৮ জনই প্রয়োজনীয় ভোট পাননি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১৮, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কিংস পার্টির ২৭০ প্রার্থীর ২৬৮ জনই প্রয়োজনীয় ভোট পাননি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৪ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৪ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে হঠাৎ করে আলোচনায় আসে তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। মূলত নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার পরই অপরিচিত এই তিনটি দল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাদের ভূমিকার কারণে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পায় দলগুলো। কিন্তু নির্বাচনের আগে বিরোধী দলে বসার ইচ্ছা ব্যক্ত করা একটি দলসহ এই তিন দলই নির্বাচনে নিদারুণভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৯৯ শতাংশ আসনেই তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ভোট বর্জন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও পদত্যাগ করা নেতাদের তৈরি করা তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএমকে নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি। বিএনপির অভিযোগ, সরকার দলটি ভাঙার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান কারগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে বহিষ্কৃত একজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনএম ও তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মতো সমঝোতা না হলেও ধারণা করা হয়েছিল দুটি দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসবেন। যেমন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান চকরিয়া আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএসপির চেয়ারম্যানও আওয়ামী লীগের একটি অংশের সমর্থন পেয়েছিল প্রচারণার সময়। কিন্তু তিনিও ভোটে হেরে গেছেন।

এবারের সংসদে জাতীয় পার্টিকে টপকে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার স্বপ্নও দেখেছেন ‘কিংস পার্টির’ কেউ কেউ। তবে শেষ পর্যন্ত দুটি আসন বাদে বাকি সব আসনেই জামানত হারিয়েছেন কিংস পার্টির প্রার্থীরা।

নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ২৮টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও বিএসপির মিলে প্রার্থী ছিল ২৭০ জন। শুধু বিএনএমের দুজন প্রার্থী বাদে বাকি ২৬৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। অর্থ ফেরত পেতে প্রার্থীদের নিজ আসনে ভোটারদের দেওয়া ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৯৮ আসনে তিন দলের মাত্র সাতজন প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন। এর মধ্যে দুজন ছাড়া বাকি পাঁচজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসনগুলোতে নামমাত্র ভোট পেয়েছেন কেউ কেউ।

ইসির কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশ কিছু আসনে হাজারের বেশি ভোট পাননি ‘কিংস পার্টির’ প্রার্থীরা। কোনো কোনো আসনে দেখা গেছে, ২৫০-৪০০ ভোট পেয়েছেন। আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে শূন্য, কোনোটিতে একটি ভোট পাওয়ার চিত্রও দেখা গেছে।

যে দুজন প্রার্থীর জামানত রক্ষা হয়েছে: জামানত রক্ষা হয়েছে সতাক্ষীরা-৪ আসনে বিএনএম মনোনীত নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী এইচএম গোলাম রেজার। এ আসন থেকে তিনি ৩৮ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। অন্যদিকে আসনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এসএম আতাউল হক দোলন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৫ ভোট নির্বাচিত হন। আসনটিতে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫।

জামানত রক্ষা হয়েছে একই দলের আরেক প্রার্থী মো. শরীফ বাদশার। তিনি কক্সবাজার-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। শরীফ বাদশার মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়েছেন।

জামানত রক্ষা হয়নি কিংস পার্টির হেভিওয়েটদের: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা বলেছিলেন, প্রধান বিরোধী দল হবে তৃণমূল বিএনপি। নিজেও হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে ধরাশায়ী হয়ে জামানত হারিয়েছেন তিনি। এই আসনের ২০৪টি কেন্দ্রে মাত্র ৩ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তৈমূর।

আসনটির ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৬ ভোটারের বিপরীতে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৪টি, যা মোট ভোটের ৫৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থী তার জামানত হারাবেন। সেই হিসাবে তৈমূর আলমের জামানত বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৬ হাজার ৫৭৮ ভোট।

একই অবস্থা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির। নির্বাচনের আগে নিবন্ধন পাওয়া দলটি ৭৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে দুটো আসন বাদে দলটির চেয়ারম্যানসহ সবাই জামানত হারিয়েছেন। বিএসপির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আসনটিতে তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ১৫৮টি।

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মো. আবু তৈয়ব পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৮৭ ভোট।

জামানত হারিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করা বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। বারবার দল বদল করা সাবেক এই সংসদ সদস্য সর্বশেষ বিএনপির নেতা ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপি ছেড়ে বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। পরে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫১৫টি। এর মধ্যে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ২২ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হিসাবে ২৯ হাজার ৬৮৯ ভোটের প্রয়োজন ছিল তার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যেখানে প্রতিযোগিতা থাকে, সেখানে ভোটাররা উপস্থিত হন। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী ছিল না; বরং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার রাজনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ