কিশোরগঞ্জ-২বিএনপিতে মনোনয়নযুদ্ধ মাঠ দখলে মরিয়া জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ-২বিএনপিতে মনোনয়নযুদ্ধ মাঠ দখলে মরিয়া জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ৩:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

 

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
ছবি: সংগৃহীত

কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে তৃণমূলের জনসাধারণের মাঝে বিএনপি’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই এমপি হওয়ার চাবিকাঠি মনে করছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা। স্বভাবতই মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগের চেয়েও দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশি তৎপর। নানা কৌশলে চলছে তাদের দৌড়ঝাঁপ। ফলে এ আসনের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রকাশ্য সমাবেশেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে বিগত সময়ে মাঠের রাজনীতিতে কোণঠাসা থাকলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীতে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা সরব রাজনীতির মাঠে। উজ্জীবিত জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল। তাকে সামনে রেখেই এখানে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জামায়াত। এই টার্গেটে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণায় সরব রয়েছেন শফিকুল ইসলাম মোড়ল। অন্যদিকে এই আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন জেলা বিএনপি’র সাবেক তিন সহ-সভাপতি এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, রুহুল আমিন আকিল ও আশফাক আহমেদ জুন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাঁকন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি মো. কামাল উদ্দিন, পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জিএস আহমেদ ফারুক খোকন এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন। গত ২২শে অক্টোবর এই ৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বিএনপি’র গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। মনোনয়নকে সামনে রেখে তারা এলাকাতেও গণসংযোগে মনোযোগী হয়েছেন। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এ আসনে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মধ্যে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা সভাপতি আবদুর রহমান রুমী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা ছাঈদ আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা রশিদ আহমদ জাহাঙ্গীর হোসাইনী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল) এবং গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপি’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে ছুটছে জামায়াত। প্রায় ৯ মাস আগে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি এই আসনে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়লকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এই সময়ে শফিকুল আলম মোড়ল নিজেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও দলের সমর্থন পেতে লবিংয়ে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা সকলেই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপিকে সভাপতি এবং আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল এ আসনের একজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা বিএনপি’র রাজনীতিতেও সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাঁকন ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি’র বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। ফলে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার তিনি। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাঁকনের এ আসনে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একজন স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি’র ৩১ দফা প্রচার এবং গণসংযোগ নিয়ে মাঠে আছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জিএস আহমেদ ফারুক খোকন। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নিজেদের মতো করে প্রচারণা ও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ