কুবিতে ছাত্রলীগের হাতে সাংবাদিক হেনস্তা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৩২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কুবিতে ছাত্রলীগের হাতে সাংবাদিক হেনস্তা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ৩১, ২০২৩ ১:১২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ৩১, ২০২৩ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির জেরে এক শিক্ষার্থীকে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনার কারণ জানতে চাওয়ায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিনিধি ইকবাল মনোয়ার।

মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইকবাল মনোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্ত্বরে বিকেল সাড়ে ৪টায় এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্যাম্পাসে কর্মরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।

সোমবার (২৯ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুই দফায় হেনস্তার শিকার হন ইকবাল মনোয়ার। তিনি ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে উপস্থিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। সাংবাদিকদের কাজ হলো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা। তারই ধারাবাহিতায় ইকবাল মনোয়ার সংবাদ তুলে আনতে গেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে ছাত্রলীগ তার উপর হামলে পড়ে। বিষয়টি অতি ন্যাক্কারজনক। আমরা আশা করবো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (২৯ মে) দুপুর ১২ টার দিকে ইংরেজি বিভাগে ১৫ তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী হীরা ও আরমানের মধ্যে বিভাগের সিঁড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে আরমান কুমিল্লা শহরে থাকেন আর হীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকেন। মারামারির এক পর্যায়ে হীরা আহত হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান (সোহাগ) জানান, হীরাদের সম্ভবত ২ বন্ধুর মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছিল। যখন সে মেডিকেল সেন্টারে আসে তখন তার (হীরা) নাকের উপরের অংশে আঙ্গুলের নখ লাগাতে রক্ত বের হয়। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু কী নিয়ে ঘটনা ঘটছে, তা তারা বলতে চায়নি।

এ দিকে হীরার পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিচে জড়ো হন। একই বিভাগ হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে ইকবাল মনোয়ার পরীক্ষা শেষ করে বের হলে বিভাগটির ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার (ইকবাল) বন্ধুদের বিষয়টি জানান। মারধরের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের হীরার বন্ধু ও ১৫ তম ব্যাচের ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী অনুষদের নিচে অবস্থান নেন। তারা বেশ কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন কিন্তু মারধরকারী অর্থাৎ আরমান বিভাগ থেকে নিচে না নামায় তারা সেখান থেকে চলে যান। দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে অবস্হান নেন।

এরই মধ্যে দুপুর আড়াইটার দিকে হীরা ও আরমানের সাথে কোনো ধরনের মীমাংসা ছাড়াই বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ আরমানকে মূল ফটক থেকে সিএনজি ভাড়া করে বিভাগের দুই বড় ভাই (আনিসুর রহমান ও সাগর) ও আরমানের এক সহপাঠী ইসতিয়াককে সাথে নিয়ে শহরের গাড়িতে তুলে দেন। গাড়িটি আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত গেলে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের ঐ নেতা-কর্মীরা আরমানকে গাড়ি ভিতরেই উপর্যুপরি লাথি, কিল ও ঘুসি মারেন।

এ সময় গুরুতর আহত আরমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডিসহ ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাস, বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা কাজী ফাখেরা নওশীন ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. আবুল হায়াত এর সাথে হীরাকে দেখতে এবং বিষয়টি মীমাংসা কীভাবে হবে এটা জানতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে যান ইকবাল মনোয়ার। শিক্ষকরা ঐ মারধরের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার এক পর্যায়ে ইকবাল মনোয়ারম প্রশ্ন তোলেন, ‘বিভাগের মারামারির বিষয়ে কেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করলো?’ এতে উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মী অমিত সরকার, আসিফ ইনতাজ রাব্বিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা গায়ে হাত তোলার উদ্দেশ্যে ইকবালের দিকে তেড়ে আসেন। পরে ইকবাল সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসেন।

এ ঘটনায় হীরা মিয়া বলেন, ‘শিক্ষকরা যখন মিচ্যুয়াল করার কথা বলছিলো তখন ইকবাল মনোয়ার ভাই বলেন মিটমাট কীসের? ওকে (আরমান) তো আবার পেটানো হয়েছে।’ এ সময় তিনি আমার বন্ধুদের দেখিয়ে বলেন, ‘এরা এরা পিটিয়েছিলো।’ তবে ইকবাল মনোয়ার ছাত্রলীগকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ। এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না।’

একই ঘটনার জেরে গতকাল সোমবার (২৯ মে) বিকেল ৪টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই ফের সাংবাদিকদের সাথে উচ্চবাচ্য শুরু করে রেজা-ই-এলাহি, মাহি হাসনাইন, আমিনুর বিশ্বাস, ওয়াসিফ, আসিফ এন্তাজ রাব্বি, নূরউদ্দিন হোসাইন, রাকিব হোসাইন, রাকেশ দাস, সাদ্দাম, মাহাবুব, মাসুম, নওশীন, রাফিসহ অন্যান্যরা। এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে তেড়ে আসতেও দেখা যায় তাঁদেরকে।

এ সময় সাবেক ছাত্রনেতা রেজা-ই-এলাহির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মীরা সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন ও উচ্চবাচ্য করে। এ সময় তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাংবাদিকরা এখনও আমাকে চিনে না, আমি কে। এই ক্যাম্পাস কারো বাপের না। সাংবাদিকরা আমাদের কী করবে, দেখে নেব। গুন্ডামির কী দেখছো।’

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজা-ই-এলাহি হুংকার দিয়ে বলেন, ‘সে (ইকবাল) বলেছে, ‘ইংলিশ ডিপার্মেন্টে নাকি ছাত্রলীগ ঢুকতে পারবে না। সে ছাত্রলীগকে দেখে নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের হেনস্তা করিনি। তারা আমাদের সাথে উচ্চবাচ্য করেছে। তবে বিশৃঙ্খলাকারী কেউ আমার কর্মী নয়।’

এ দিকে ইকবাল মনোয়ারের বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাসের দেওয়া তথ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোতে জানা যায়, ইকবাল রাগান্বিত হয়ে দুই ঠোঁট এক করে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলেছেন ছাত্রলীগ নেতাদের।’

পরবর্তিতে উপরে উল্লেখিত মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী বিশ্বাস বলেন, ‘তাকে (রুদ্র ইকবাল) আমি চুপ করতে বলতে শুনেছি।’ এ সময় তার অঙ্গভঙ্গি কেমন ছিল? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঘটনায় উপস্থিত ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষক মো. আবুল হায়াত বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ইকবাল ‘ছাত্রলীগকে দেখে নিব’ এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করেনি। বরং প্রক্টরসহ উপস্থিত শিক্ষকরা মিটমাটের কথা বললে সে প্রশ্ন তুলেছিল আরমানকে বাহিরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে এটা কীভাবে মিটমাট হয়? এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার উপর চড়াও হন।’

দুই ঠোঁট এক করে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে (রুদ্র ইকবাল) এমন কোনো মন্তব্য করতে আমি শুনিনি।’

তবে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইকবাল মনোয়ার বলেন, ‘আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব থেকে বিভাগের ইস্যুতে ছাত্রলীগের জড়িত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানিতেই আমার ওপর হামলে পড়ে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ