কুমিল্লা ৭বিএনপিতে মনোনয়নযুদ্ধ সক্রিয় ৩ ইসলামী দল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

চান্দিনা (কুমিল্লা) থেকে
কুমিল্লার শুধুমাত্র চান্দিনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন। ওই আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী চার প্রার্থী। তার মধ্যে তিনজন বিএনপি’র নিজ দল থেকে, অপরজন জোটসঙ্গী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ নিয়ে ঊর্ধŸতন নেতাদের সঙ্গে চলছে জোর লবিং তদবির। নির্বাচনী মাঠে সরব অবস্থানে রয়েছেন তিনটি ইসলামী দলের প্রার্থীও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন নিয়েই দৌড়ঝাঁপ চলছে বেশি। কেউ বলছেন গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন, আবার কেউ বলছেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরলেই নাম ঘোষণা করবেন। এমন নানামুখী গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচনী মাঠে। নিজ নিজ সমর্থিত কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ লিখে শুকরিয়া জানাতে দেখা গেছে। আবার কেউবা বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি মুখ ও আতশবাজি ফাটিয়ে উল্লাস করছেন। তবে, সবকিছুই নির্ভর করছে দলের প্রধান নীতি-নির্ধারক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চান্দিনা উপজেলার প্রায় তিন লাখ ভোটার অধ্যুষিত কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আতিকুল আলম শাওন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জাহিন। এ ছাড়া, বিএনপি থেকে জোটভুক্ত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর এ আসনে বিএনপি’র একক প্রার্থী হিসেবে মাঠ ধরে রেখেছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বিএনপি থেকে দুইবার, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র থেকে একবার করে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি ছেড়ে এলডিপি নামে নতুন দল গঠন করার পর তৎকালীন উপজেলা বিএনপি সভাপতি খোরশেদ আলম বিএনপি’র হাল ধরে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ই জানুয়ারি খোরশেদ আলমের মৃত্যুর পর বিএনপি’র চালকের আসনে বসেন তার একমাত্র ছেলে আতিকুল আলম শাওন। উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একাই টেনে নিয়ে যান দলকে। যে কারণে বিএনপি’র দলীয় মনোয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আশাবাদী আতিকুল আলম শাওন।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাবলে এলডিপিকে নিয়ে ২০ দলীয় জোট করে বিএনপি। আন্দোলন সংগ্রামে ও যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি’র সঙ্গেই আছে এলডিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের তথ্যমতে, যুগপৎ আন্দোলনে সঙ্গে থাকা শরিক দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। এমন তথ্যকে প্রাধান্য দিয়ে ড. রেদোয়ান আহমেদকে জোটের প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখছেন চান্দিনায় এলডিপি নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় কমতি নেই প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জাহিনেরও। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ শাসনামলে মামলা-হামলার শিকার এবং কারাভোগ করেছেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, গত তিনবার আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। আশা করি, দল এবার আমাকে মূল্যায়ন করবে। মোস্তাফিজুর রহমান জাহিন মনে করেন, বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করি এবং অদ্যবধি বিএনপিতেই আছি। দেশে-বিদেশে বিএনপি’র অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। মনোনয়নপ্রত্যাশী আতিকুল আলম শাওন মনে করেন, দলের সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। চান্দিনা উপজেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছি। সেক্ষেত্রে মনোনয়ন নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। তারপরও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেন, সেটাই মাথা পেতে নেবো। এলডিপি মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমি বিএনপি ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেইনি বরং নিজে দল করেছি। এ ছাড়া, ২০১২ সালে বিএনপি’র ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেই। পরবর্তীতে যুগপৎ আন্দোলনেও বিএনপি’র সঙ্গে আছি। জোটবদ্ধ নির্বাচনে আমার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে, চান্দিনা আসনে তিনটি ইসলামী দল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থিতা জানান দিয়ে প্রচারণা করছেন উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী এবং খেলাফত মজলিস দুবাই শাখার সভাপতি মাওলানা সোলাইমান খান। তবে, ইসলামী দলগুলো জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন এমনটাই গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রার্থী হলেও জোটের প্রার্থী নিয়েও চলছে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া।
জনতার আওয়াজ/আ আ