কুড়িগ্রামে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালে লন্ডনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক কুড়িগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার এই আগ্রহের প্রেক্ষিতে ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য সেখানে শিল্পভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মাধবরাম মৌজায় ‘কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল-১’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে ভুটানের রাজার আগ্রহের ভিত্তিতে জিটুজি যৌথ উদ্যোগের অধীনে সেখানে একটি ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।

জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেজার অনুকূলে মোট ১৫০ দশমিক ০৭ একর খাস জমি এবং ৬৯ দশমিক ৫৭ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বরাদ্দ বা অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত বেজা সংশ্লিষ্ট মৌজায় ১৩৩ দশমিক ৯২ একর জমির মালিকানা পেয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকায় আরও ৬১ দশমিক ৮৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসে ভুটানের রাজা প্রস্তাবিত ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ভুটান সরকার দ্রুত একটি ডেভেলপার কোম্পানি নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

সরকার আশা করছে, এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ