কেউ যদি এখনকার আকাঙ্খার সাথে বেইমানি করে তার বিরুদ্ধে লড়াই হবে: মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কেউ যদি এখনকার আকাঙ্খার সাথে বেইমানি করে তার বিরুদ্ধে লড়াই হবে: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১, ২০২৫ ৯:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১, ২০২৫ ৯:২৫ অপরাহ্ণ

 

ছবি: প্রতিনিধি
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কেউ যদি এখনকার যে আকাংখা…যা প্রস্ফুটিত, যা বোঝা গেছে, যা প্রকাশিত তার সাথে বেইমানি করতে চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে লড়াই হবে। একেবারে নতুন ধরনের একটা পলিটিক্স তৈরি হবে। নতুন ধরনের একটা রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরি হবে। এরকম সম্ভব। যদি কেউ তার জায়গা থেকে অন্যদিকে চলে যাবার চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণশক্তি সভা কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল কেবল সরকার পতনের নয়, বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও জীবনের মান বদলের জন্য মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দিক হলো—মানুষ জেনে বুঝে জীবন দিয়েছে। শুধু ছাত্র নয়, কিশোর, মা ও শিশু পর্যন্ত রাস্তায় নেমেছে। এরকম অকাতরে আত্মত্যাগ ইতিহাসে বিরল।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, এটি একটি জাতির অভ্যন্তরীণ চেতনার বিস্ফোরণ। মানুষের আকাঙ্ক্ষা, অর্থাৎ ভালো জীবন, ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই আন্দোলন এসেছে।

মানুষ গুলি খাবে জেনেও এগিয়ে গেছে, মন্তব্য করে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, এইবারের আন্দোলন আর আগের মতো ছিল না। এটা এমন ছিল না যে, হঠাৎ একটা মিছিল বের হলো, পুলিশ গুলি করল, কয়েকজন মারা গেল। বরং মানুষ জেনে বুঝে রাস্তায় গেছে, মৃত্যুর আশঙ্কা জেনেও পিছু হটেনি। নিজের ঘরে বসে থাকার চাইতে রাজপথে নামাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে সাধারণ মানুষ। আমি নিজের চোখে দেখেছি, এক মা তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে পথে নেমেছেন, জানেন গোলাগুলি হচ্ছে—তবুও পিছু হটেননি। এটাই আকাঙ্ক্ষার শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মান্না বলেন, শুধু দল বদলালেই হবে না। আমরা সরকার বদলের লড়াই করিনি, সমাজ বদলের লড়াই করেছি। এই সমাজ বদলের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কার। প্রথমবারের মতো বড় বড় রাজনৈতিক দল এক টেবিলে বসেছে, এমনকি যারা অতীতে একসাথে বসতেই চাইতো না, তারা এখন আলোচনা করছে। এটাও পরিবর্তনের সূচনা।

তিনি বলেন, আগে মানুষ প্রশ্ন করত, ভোট হবে কিনা। এখন তারা ধরে নিচ্ছে ভোট হবেই। কেননা, যদি না হয়, তাহলে গণতন্ত্র আবার পিছিয়ে যাবে, কালো শক্তি আসবে, হয়ত মার্শাল ল হয়ে যাবে। ভোট হলে কে জিতবে, সেটাই বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেটাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রথম ধাপ।

মান্না বলেন, আমরা একটা ক্রস রোডে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের রাজনীতির শত্রু কে মিত্র কে তা নির্ধারিত হয়নি পুরোপুরি। যখন আওয়ামী লীগ ছিলো তখন বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো লড়াই করতো তার বিরুদ্ধে। যতদিন বিএনপি ছিলো তখন আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দল লড়াই করতো তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন কার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন ? সরকারের বিরুদ্ধে ? এই সরকার আছে কয়দিন? ছয়মাস পরেই তো নাই তারা। তাহলে কথা বলবেন কার বিরুদ্ধে, কিভাবে ? সেজন্য আমি মনে করি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে তার রাজনীতি এই আংগিকেই নির্মান করতে হবে….মানে দেশে কোন ধরনের রাজনীতিকে আপনি প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সেই রাজনীতির পক্ষে বলতে হবে।

তিনি বলেন, আজ যারা প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা আছেন তারা আগামীতে আপনার প্রতিপক্ষ হচ্ছেন না। তাহলে প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে ? রাশিয়ার পতনের পর আমেরিকার যেমন বিশ্ব জুড়ে একক দাপট; আওয়ামী লীগ পলাতক হবার পরে, তার দল নিষিদ্ধ হবার পরে বিএনপি এখন একক, প্রায় অদ্বিতীয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ