কোটা আন্দোলনে নিহতদের তালিকা প্রকাশের আহ্বান জাতিসংঘের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪ ১০:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট সহিংস ঘটনায় কত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা দ্রুত প্রকাশ করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ভলতার তুর্ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়ম-নীতি ও মানদণ্ড মেনে এই দেশের সব আইন প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিতের আহ্বানও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) জেনেভা থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও যুব আন্দোলনের বিক্ষোভে ১৭০ জনের বেশি মৃতের খবর এসেছে। এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। এতে অন্তত দুই সাংবাদিক নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দলের নেতাসহ শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলতার তুর্ক বলেন, আমরা অনুধাবন করেছি যে অনেক মানুষ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীর সহিংস আক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য কোন প্রচেষ্টা করা হয়নি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার যেন বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ভঙ্গ না করে এবং যদি করেন তারা যেন দায়মুক্তি না পায় সেই আহ্বানও করেছেন তিনি। এছাড়া সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে কিংবা ভিন্নমতের বিরুদ্ধে আরও দমন-পীড়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন কোনো বিবৃতি বা কাজ এড়িয়ে চলতে সকল রাজনৈতিক নেতার প্রতি আবেদন করেছেন তিনি।
দেখামাত্র গুলি চালানো বিষয়ে নতুন বার্তা
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলবাহিনীর সদস্যদের দেখামাত্র গুলি চালানোর বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। আন্দোলন ঠেকাতে গোলাবারুদের ব্যবহার সম্পর্কে ঢাকার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
গতকাল বুধবার জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইনশৃঙ্খলবাহিনীর সদস্যদের বিক্ষোভকারী দেখামাত্র গুলির করার যে নির্দেশনা সরকার দিয়েছে সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এ জবাব দেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেসের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, মানবাধিকার নীতির সব শর্ত পূরণ করে যেন শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পাঠানো হয় তা নিশ্চিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিশ্ব সংস্থাটি।
এক প্রতিনিধিকে বাদ দেয়ার ব্যাখ্যা
এদিকে, বুধবার ঢাকায় থাকা সব কূটনীতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনে নিয়ে যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ সময় জাতিসংঘের মনোনীত এক কূটনীতিককে থাকতে দেয়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের সেই কূটনীতিকের নাম আনন্দ আলোকাবান্দারা। তিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক। ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন আলোকাবান্দারা।
এ বিষয়ে ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া চাইলে ঢাকার মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২৪ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজনে ধ্বংসযজ্ঞের স্থান পরিদর্শনে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয় থেকে দুই জনকে মনোনীত করা হয়েছিল। এর মধ্যে থেকে কেন একজনকে বাদ দেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ