কোন্দল নিষ্পত্তি না হলেও মঞ্চে থেকেও চুপ কাদের, বক্তব্য দেন রওশন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৭, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কোন্দল নিষ্পত্তি না হলেও মঞ্চে থেকেও চুপ কাদের, বক্তব্য দেন রওশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

নেতৃত্ব নিয়ে চলমান কোন্দল নিষ্পত্তি না হলেও দীর্ঘদিন পর পাশাপাশি চেয়ারে বসে সমাবেশ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে মঞ্চে থেকেও আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কোনো কথা বলেননি জি এম কাদের। যা বলার বললেন রওশন এরশাদ। দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জি এম কাদের উপস্থিত থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হুইলচেয়ারে করে মঞ্চে আসেন রওশন। চেয়ারে বসেই বক্তব্য দেন তিনি। কর্মসূচিতে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। তবে রওশনপন্থিদের মধ্যে সাদ এরশাদ ছাড়া সমাবেশে আর কাউকে দেখা যায়নি। বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতারা দুটি বিষয় একেবারেই পরিষ্কার করেন। তা হলো—সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। তবে কোনো দলের সঙ্গে জোট না করে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা স্পষ্টই জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য কিছুক্ষণ পরপর নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে কয়েক দফা হট্টগোলও হয়েছে। তেমনি সভাস্থলে বসাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে আশানুরূপ ফল অর্জনে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। তৃণমূলে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। স্বজনপ্রীতি পরিহার করে সব পর্যায়ের কমিটি গঠনে যোগ্যতার মাপকাঠি বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে চলার পথে ছোটখাটো মান- অভিমান সৃষ্টি হতেই পারে মন্তব্য করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে মান-অভিমান ভুলে যেতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্মান দেখাতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার মেনে চলতে হবে। সৌজন্যবোধ থাকতে হবে। প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে পার্টি শক্তিশালী থাকবে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় পার্টি একটি পরিবার। আমরা জাতীয় পার্টি পরিবারের গর্বিত সদস্য।’

জাতীয় পার্টি সবসময় গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে এই বিরোধী নেতা বলেন, ‘আমরা কখনো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। ভবিষ্যতেও ধ্বংসাত্মক এবং অপরাজনীতিতে জড়াব না। জাপা শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের সুআচরণ, ভালোবাসা এবং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

এরশাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের দায়িত্ব তার অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করা।

পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন নেতাকর্মীরা বারবার বিক্ষুব্ধ হয়ে জি এম কাদেরের মামলা কবে প্রত্যাহার হবে, তা জানতে চান। অনেকেই দালাল দালাল বলে চিৎকার করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব এ মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাবে। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, আমাদের ধ্বংস করা এত সহজ নয়। আগামী নির্বাচনে আমরা কারও লেজুর হব না। জাতীয় পার্টিকে সাধারণ মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার জায়গা হিসেবে তৈরি করব।

সাবেক মহাসচিব ও কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রওশন ও জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা উন্নয়ন, শান্তি, ঐক্য ও নির্বাচনের পক্ষে।

দলে কোনো অনৈক্য না থাকার কথা জানিয়ে অপর কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, দল শক্তিশালী। তাই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। জাপায় ভাঙার রাজনীতি চলবে না। কেউ করলে তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, যে মামলার কারণে দলের চেয়ারম্যান সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিতে পারেননি সেই মামলবাজের জায়গা জাপায় হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুর্নীতি, দুঃশাসন, ব্যাংক লুটপাট ছাড়া মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। দেশে পাঁচ কোটি বেকার সমস্যা সমাধানে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পক্ষে জাপা—এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো নির্বাচন দেশে সুষ্ঠু হয়নি। তাই আমরা চাই আনুপাতিক হারে নির্বাচন। ভোট অনুযায়ী আসন বণ্টন হবে। আগামী নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান করে গেছেন—তিনি আজীবন এ পদে থাকবেন। আজ প্রমাণ হয়েছে, রওশন ও জি এম কাদের একই সুতোয় গাঁথা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সামলা ইসলাম, শফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ