খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বগুড়াবাসি: কাঁদছেন নেতাকর্মীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ৯:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ৯:১৭ অপরাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে বগুড়া জেলার মানুষ সকাল থেকেই এক গভীর শোকের আবর্তে বিবর্ণ হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ বগুড়ার মানুষের হৃদয়ে একটি ভারী দাগ রেখেছে।
সাধারণ মানুষ রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। কোথাও কোনো ঘোষণা বা রাজনৈতিক উত্তেজনা নেই; কেবল স্মৃতিচারণ, নীরবতা ও শোকের ভারে থমকে থাকা শহরই চোখে পড়েছে।
শহরের অলিগলি, বিভিন্ন দোকান ও বাজারের প্রতিটি স্থানে শোকের ভার অনুভূত হয়েছে। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।
বগুড়া জেলা কার্যালয়ে আসা বিএনপি নেতা-কর্মীরাও সকাল থেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা করেছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ স্মৃতিচারণ করছেন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও সংগ্রামের গল্প নিয়ে।
বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা নেতারা ও সাধারণ সমর্থকদের উদ্যোগে দ্রুত শোকানুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মর্যাদায় দোয়া ও কোরআন খতম করা হচ্ছে, যেখানে শত শত মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
বগুড়ার মানুষ কেবল একজন রাজনীতিককে হারায়নি, হারিয়েছে এক নেত্রীকে, যার রাজনৈতিক ইতিহাস গভীরভাবে জাতির রাজনৈতিক বোধ ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। আজ বগুড়া শহর ধরে রাখা চোখের জল ও ভারী দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেই এক অনন্য শোকের অনুভূতি প্রতিফলিত হয়েছে।
কান্নারত অবস্থায় জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, কয়েক দিন আগে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলেছেন ও কুশল বিনিময় করেছেন। খালেদা জিয়া তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা বগুড়া ও এখানকার মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। তার হাত ধরে অবহেলিত বগুড়া উন্নয়নের মুখ দেখেছে। তাই বগুড়ার মানুষ তাকে আজীবন স্মরণ ও শ্রদ্ধা করবেন বলেও জানান এই নেতা।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বগুড়া সদর-৬ আসনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হন। খালেদা জিয়া ফেনীর আসন রাখায় ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন।
সদর-৬ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নেননি, ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তবে তিনি এ আসন ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জয়ী হন। এছাড়া একবার উপনির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মওদুদ আহমদ প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় জাতীয় পার্টির আলতাফ আলী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করলে বিএনপির সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না থাকায় ওই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা আলম নান্নু।
জনতার আওয়াজ/আ আ