গণতন্ত্রে অঙ্গীকার ও নতুন দিনের রাজনীতি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্রে অঙ্গীকার ও নতুন দিনের রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ২৮, ২০২৩ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ২৮, ২০২৩ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

 

শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস
এক.
গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে বাংলাদেশে নৈতিক অধঃপতন এখন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। ক্ষমতার উচ্চাসনে বসে থাকা হর্তাকর্তা ব্যক্তিদের অনর্গল মিথ্যা কথার দাপটে দেশ থেকে সত্য এখন প্রায় নির্বাসিত। সর্বত্র এখন হতাশা অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসেছে। কোথায়ও কোনো জবাবদিহির বালাই নেই। জনগণের ব্যবহৃত সড়ক নির্মাণে এক নম্বর ইটের বদলে তিন নম্বর ইটে কাজ হয়। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজ করা হয়। পানি মেশানো ছাড়া বাজারে দুধ পাওয়া যায় না। মাপে ওজনে কম এবং প্রতিটি জিনিসে ভেজাল। থানাগুলো এখন মিথ্যা ও গায়েবি মামলার ফ্যাক্টরি। কোর্ট কাচারিতে সাধারণ মানুষ বিচার পায় না।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ভোট ছাড়া মেম্বার, চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি বানানো হয়। ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেটে জনগণের টাকা হরিলুট হয়। গুম খুনের তদন্ত ও বিচার হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহাবস্থান ও জ্ঞানচর্চা নেই। শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নেই। হাসপাতালে গরিবের চিকিৎসা নেই। কোথায়ও কারো নিরাপত্তা নেই। শুধু নেই, নেই আর নেই। এমন একটি সময়ের মুখোমুখি আমরা কেন এবং কীভাবে হলাম?

এর জন্য কে দায়ী
সবাই বলে ভোট চোর শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ। এই দুঃশাসন থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষার জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত অলিগার (লুটেরা চোর), প্রতিহিংসাপরায়ণ ও অসৎ রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করতে হবে। একই সাথে লুটেরা অলিগারদের সাথে দেশপ্রমিক, ত্যাগী ও নিঃস্বার্থ রাজনীতিবিদদের পার্থক্য বোঝার মেকানিজম সহজ করতে হবে।

দুই.
আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন অবৈধ পথে টাকা কামানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে রাজনীতিকে কলুষিত করে ফেলেছে। গত ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনে বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদ জনসেবা ও মানুষের কল্যাণচিন্তা বাদ দিয়ে টুপাইস কামানোর তথা আখের গোছানোর ধান্ধাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কিছু রাজনীতিবিদ দলের কর্মী, সমর্থকদের নীতি আদর্শের বদলে স্বার্থের ধান্ধায় ব্যস্ত রেখেছে।

অথচ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন সৎ নেতৃত্ব খুঁজছে। যারা সততার পথ আঁকড়ে ধরবে তারাই আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে। কোন নেতারা অসততা ও দুর্নীতির পথে চলছে এবং কারা দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছে সেটি যেন কর্মী, সমর্থকসহ সব শ্রেণীরে জনগণ সহজে জানতে পারে তার একটি অটোমেটিক মেকানিজম থাকা দরকার। স্বার্থপর এবং নিঃস্বার্থ মানুষের পার্থক্য জানা ও বোঝার বিষয়ে জনগণ ও কর্মীদের আগ্রহী করতে হবে। নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক কর্মীর অহঙ্কার থাকে না। কিন্তু কিছু স্বার্থপর রাজনৈতিক নেতা দেখা যায়, যারা অহঙ্কার ও ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখানোর পরও লজ্জিত না হয়ে জেদ করে বলবে, যা করেছি ভালো করেছি। এই অহঙ্কারীদের চিহ্নিত করে রাজনীতি থেকে গুডবাই জানাতে হবে।
তিন.

বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে এক দুর্যোগপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে পড়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি আর কর্তৃত্ববাদ সমাজের প্রতিটি গণতান্ত্রিক স্তম্ভ ধ্বংস করে ফেলেছে। এখন প্রয়োজন নতুন করে নির্মাণ।

প্রয়োজন দেশপ্রেমিক মানুষের রাজনীতি। রাজনীতিবিদরা দেশপ্রেমিক এবং জনদরদি হলেই পাল্টাবে সমাজ, পাল্টাবে রাষ্ট্র, বদলে যাবে রাজনীতি। মনে রাখতে হবে, রাজনীতি কোনো লাভজনক ব্যবসা নয়। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই নতুন দিনের স্বপ্ন। সমাজের প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলেই সত্যিকারের বৈষম্য ও জুলুম থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের লড়াই চলছে। দেশে গণতন্ত্র, সুষ্ঠু ভোট ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার জন্য সংগঠন ও রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

লেখক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ