গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিন্দুমাত্র বর্তমানে দেশে নাই : দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ৬:৫২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ৬:৫২ অপরাহ্ণ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার দল। এই দল যতদিন থাকবে ততদিন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এই দল যতদিন থাকবে একটা স্বপ্ন থাকবে, মানুষের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির রিজভী ও আব্দুস সালামসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, ‘এমন একটা সময়ে আমরা বসবাস করছি, অন্ধকার সময় বললে কম বলা হবে। ঘৃণার সময় বললেও কম বলা হয়। এত খারাপ সময় জাতি প্রত্যক্ষ করছে যে আমি বেঁচে না থাকলে হয়তো দেখতে পারতাম না। ৭১ সালে যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিন্দুমাত্র বর্তমানে দেশে নাই। তারা (আওয়ামী লীগ) প্রতিনিয়ত এই জাতির সাথে প্রতারণা করছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে যারা ক্ষমতায় বসে ছিলেন। তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে গণতন্ত্রকে হরণ করেছিল। কিন্তু তাদের মূল্যটা একটু বেশি দেওয়া লেগেছে। এইজন্যে আজকের কথিত প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আমরা হাহাকার দেখতে পাই। প্রধানমন্ত্রী তার দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আমার পিতার লাশ পড়েছিল আপনারা কোথায় ছিলেন।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক সব সময় শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে থাকতেন। একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খন্দকার মোশতাককে নিয়ে কথা বলে না। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, বিএনপিকে নিয়ে কথা বলে কিন্তু খন্দকার মোশতাককে নিয়ে কথা বলে না। কারণ হলো খন্দকার মোশতাক মুজিব কোট পড়তেন। পরবর্তীতে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন সেই সরকারে ৩৯ থেকে ৪০ জন মন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের মন্ত্রী।’
তিনি বলেন, ‘দেশের এই পরিস্থিতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নাই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছুই ছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটা ডাকে সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে এবং স্বাধীনতা লাভ করে। জিয়াউর রহমানের দল হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার দল। এই দল যতদিন থাকবে ততদিন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এই দল যতদিন থাকবে একটা স্বপ্ন থাকবে মানুষের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’
কৃষকদলের সাবেক এই আহবায়ক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পারে ব্যাংক লুটপাট করতে, গুন্ডামি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার এ ছাড়া আর কিছু পারে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ গুলো দেখে সরকার ভয় পেয়েছে। তারা বলে বিএনপি ভয় পেয়েছে। বিএনপি ভয় পাই। ভয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন। ভয় পেয়েছে বলেই তারা বিএনপির সমাবেশ কে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা অ্যাড. ফজলুর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ